আসামির স্ত্রীকে মারধর—লুটপাট, সীতাকুণ্ডে এসআই প্রত্যাহার

সীতাকুণ্ডের মাহবুব মোরশেদ নামে এক উপপরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আসামির স্ত্রী-সন্তানকে মারধর ও ঘরে ঢুকে নগদ ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল লুটে নেয়ার অভিযোগে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রোববার (১৭ এপ্রিল) রাতে এসআই মাহবুবকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রামের পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন: এএসআই আরিফুলের নেতৃত্বে দোকানে হামলা—ভাঙচুর, দুজনকে মারলও পুলিশ!

বিষয়টি নিশ্চিত করে এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল করিম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে সীতাকুণ্ড মুরাদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ভাটেরখীল গ্রামের নুর আহম্মদের নতুন বাড়ির বাসিন্দা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি নুরুল ইসলামকে(৫০) গ্রেপ্তার করতে বাড়িতে যান সীতাকুণ্ড থানার এসআই মাহবুব মোর্শেদ ও সোর্স মো. নুরুজ্জামানসহ (৪৫) চারজন। এদের মধ্যে এসআই মাহবুব ও সোর্স নুরুজ্জামান নুরুল ইসলামের ঘরে ঢুকে আসামির স্ত্রী খালেদা আক্তারকে আলমিরার চাবি দিতে বলেন। চাবি দিতে না চাইলে এসআই মাহবুব ক্ষিপ্ত হয়ে খালেদাকে লাথি মারেন। পরে বাধ্য হয়ে তাদেরকে চাবি দিলে মাহবুব ও নুরুজ্জামান আলমিরাতে থাকা ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ও ৮ আনা স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যান। এছাড়া ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষার বিভিন্ন সার্টিফিকেট, জন্মনিবন্ধনের কাগজপত্র ও ইসলামী ব্যাংকে লেনদেনের কাগজপত্র নিয়ে যান।

এরপর খালেদা আক্তার রোববার (১৭ এ্রপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার, সীতাকুণ্ড সার্কেলের এডিশনাল এসপি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

পরে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় একইদিন রাতে অভিযুক্ত এসআই মাহবুব মোর্শেদকে প্রত্যাহার করা হয়।

আরও পড়ুন: বৃদ্ধকে এলোপাথাড়ি কোপ, ফোনে তথ্য দিবেন না এসআই

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল করিম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, এসআই মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল লুটের ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে।

অভিযোগ বিষেয়ে জানতে চাইলে এসআই মাহবুব মোর্শেদ আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ভাটেরখীল গ্রামে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার করতে গেলে আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামি পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।পরে আমরা তাকে ধাওয়া করেছি। স্বর্ণালংকার, টাকা ও মোবাইল লুটসহ অন্যান্য অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা ও পরিকল্পিত।

সালাউদ্দিন/আরবি

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm