সীতাকুণ্ডের সবজি : ভোক্তার হাতে আসতেই যেভাবে দাম হয়ে যায় দ্বিগুণ

সবজির জন্য দারুণ খ্যাতি রয়েছে সীতাকুণ্ডের। সেই সীতাকুণ্ডেই এখন শীতের সবজির দাম চড়া। অথচ কৃষকরা কিন্তু স্বল্প মূল্যেই সবজি বিক্রি করছেন। কিন্তু খুচরা বাজারে সেই সবজির দাম হয়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ!

সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন হাট-বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শীতকালীন শাক-সবজি। এতে প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর।

উপজেলায় ১৮ হাজারেরও বেশি কৃষক পরিবার রয়েছে। তাদের কাছ থেকে এসব শাক-সবজি পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কিনে এনে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করছে। সে তুলনায় কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে নামমাত্র মূল্য।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে আসা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি মৌসুমে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা অনেক পরিশ্রম করেন। তারা নিজ নিজ জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির সবজির চাষ করে থাকেন। এসব সবজি সাপ্তাহিক বাজারে নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য।

অন্যদিকে খুচরা দোকানিরাও কৃষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে কম দামে সবজি কিনে তা দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন। দেখা গেছে প্রতিটি সবজিতদ কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা করে বেশি নিচ্ছে তারা।

Thai Food

আরও পড়ুন : সবজি খেতের সঙ্গে ‘শত্রুতা’

গুলিয়াখালী গ্রামের কৃষক আয়ুব আলী, মো. আজম ও মো. আবু তাহের বলেন, একটি সিন্ডিকেট প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা করে দাম কম দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছেন সবজি। আমরা কাঁচামাল পচে যাওয়ার ভয়ে বাধ্য হয়ে কম দামে পাইকারিতে বিক্রি করে দিচ্ছি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে বেগুন কিনছে কেজি ৩৫ টাকা করে। আর খুচরা দোকানে বিক্রি করছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। ২০ টাকার ঢেঁড়স খুচরায় ৩০ এবং ২৫ টাকার চিচিঙ্গা খুচরা বাজারে ৪০। ঠিক এভাবে প্রতিটি সবজি বেশি দামে বিক্রি করছেন খুচরা দোকানিরা।

পৌরসভার শেখনগর থেকে মোহন্তের হাটে সবজি কিনতে আসা রিগান দাশ বলেন, শীত মৌসুমে সবজির দাম কম হওয়ার কথা। কিন্তু একশ্রেণীর ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছ থেকে কম মূল্যে সবজি কিনে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে। পালংশাক প্রতিআঁটি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। কিন্তু কৃষকদের কাছ থেকে তারা কিনছেন ২০-৩০ টাকায়। এভাবে প্রত্যেকটি সবজির দাম লাগামহীন।

এদিকে খুচরা ব্যবায়ীরা বলছেন, বেশি দামে সবজি কেনার কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বেশি দামে কিনে তো আর কম দামে বিক্রি করতে পারি না।

যোগাযোগ করা হলে সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, প্রতিবারের মতো চলতি শীত মৌসুমেও উপজেলায় ৫ হাজার ৩ শত হেক্টর জমিতে ১৮ হাজার ৬৫০ জন কৃষক শীতকালীন বিভিন্ন রকম সবজির আবাদ করেছেন। আর সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৮ হাজার ৯৮০ মেট্রিকটন। বর্তমানে সবজির দাম ভালো। তাই কৃষক পরিবার শীতকালীন সবজি বিক্রি করে আশাকরি লাভবান হবেন।

ডিসি
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm