সিআইডিও বলছে দলিলটি জাল, চক্রের ৫ জনকে খুঁজছে পুলিশ

এক বছর আগে করা হয়েছিল মামলাটি। অবশেষে সেই মামলায় প্রতিবেদন দিয়েছে সিআইডি। সিআইডি বলছে, দলিলটি জাল। প্রতিবেদন পাওয়ার পর জালিয়াত চক্রের পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এখন চকরিয়ার সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিল জালিয়াতিচক্রের সেই ৫ জনকে খুঁজছে পুলিশ।

চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক প্রবাল চক্রবর্তী রোববার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে চক্রের পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আসামিরা হলেন— চকরিয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ফরিদুল ইসলাম, জালদলিল তৈরির মূলহোতা আবদুল হামিদ ও জাবেদ আমিন, মানিকপুর এলাকার লামং রাখাইন ও উপচিং রাখাইন।

আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে জাল দলিলে আড়াই কোটি টাকা তুলতে গিয়ে ধরা খেল প্রতারক

বাদীপক্ষের আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, চকরিয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রতারকচক্র জাল দলিল তৈরি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। এ ধরনের একটি জাল দলিল শনাক্ত হওয়ার পর গত বছরের ১৭ অক্টোবর দলিল লেখক কাজল বড়ুয়া বাদী হয়ে দলিল গ্রহীতা লামং রাখাইন ও উপছিং রাখাইনের বিরুদ্ধে চকরিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

এরপর সিআইডি তদন্ত শেষে চকরিয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ফরিদুল ইসলাম, তাঁর সহকারী আবদুল হামিদ, মানিকপুর এলাকার জাবেদ আমিন, লামং রাখাইন ও উপচিং রাখাইনের সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালত প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে রোববার ৫ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এদিকে দলিল লেখক ফরিদুল ইসলাম এই চক্রের সঙ্গে জড়িত নয় উল্লেখ করে বলেন, আমার অফিসের সহকারী আবদুল হামিদ আমার সিল দিয়ে নকল দলিল তৈরি করেছিলেন। বিষয়টি তিনি আইনগতভাবে মোকাবেলা করবেন বলে জানান।

অপরদিকে জাল দলিল তৈরি করে যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল ওই চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান চকরিয়া দলিল লেখক সমিতির সভাপতি জাকির হোসেন ও সম্পাদক শরিফুল ইসলাম।

যোগাযোগ করা হলে চকরিয়ার সাব রেজিস্ট্রিার আবদুল্লাহ আল মামুন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, যারা জাল দলিল তৈরি করে প্রতারণা করে তারা দেশ ও জাতির শত্রু। ওই প্রতারকচক্র শনাক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

এমকেডি/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm