তীব্র গরমে হঠাৎ বৃষ্টি—শিশু ওয়ার্ডে কাহিল অবস্থা

জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগের প্রকোপ বেড়েছে চট্টগ্রামে। প্রায় ঘরে ঘরেই জ্বর-সর্দি-কাশির রোগী। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।

এদিকে হাসপাতালগুলোতেও ভিড় বেড়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতালসহ বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এখন ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগীতে ঠাসা।

নতুন শিশু রোগী ভর্তি নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মেডিকেল এবং মা ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। নগর ও আশপাশের এলাকা থেকে রোগী ভর্তি বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: ঘরে ঘরে জ্বর সর্দি কাশি—করণীয় জানালেন বিশেষজ্ঞরা

Yakub Group

চিকিৎসকরা বলছেন, ঠাণ্ডা আর গরমের মিশ্র প্রভাব এখন আবহাওয়ায়। যার অস্বস্তিকর প্রভাব পরেছে জনজীবনে। ফলে বড়দের পাশাপাশি নানা রোগব্যাধিতে এখন আক্রান্ত শিশুরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শিশুদের শয্যা আছে ৮৮টি। অথচ রোগী ভর্তি আছে প্রায় ৪০০ জনের মতো। হাসপাতালের বেড ছাড়াও মেঝে ও বারান্দা চিকিৎসা নিচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। তাদের সঙ্গে নির্ঘুম রাত কাটছে মা-বাবা ও অভিভাবকদের।

রোগীর চাপে সেবা দিতে গিয়ে কাহিল অবস্থা চিকিৎসকদের। হিমসিম খেতে হচ্ছে নার্স, আয়া এবং ওয়ার্ড বয়দেরও। প্রতি মুহূর্তে ভর্তি হচ্ছে নতুন রোগী। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যাই বেশি।

শিশু
চমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বাড়ছে রোগীর চাপ, কাটছে মায়েদের নির্ঘুম রাত। ছবি: বাচ্চু বড়ুয়া

এ অবস্থায় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। উচ্চবিত্তদের প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার সামর্থ্য থাকলেও নিম্ন আয়ের মানুষদের যে তা নেই। তাই সরকারি হাসপাতালে বেড খালি না পেয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের।

যোগাাযোগ করা হলে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর জানান, মাটিতে বিছানা করে দিয়েই হোক অথবা অন্য যেকোনোভাবে, বাড়তি শয্যার ব্যবস্থা যতটুকু করা যায় আমরা করছি। চিকিৎসা না পেয়ে কাউকে ফিরে যেতে হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: ‘দুঃসংবাদ’—চট্টগ্রামে ১২ শিশু করোনা আক্রান্ত, সবার নমুনায় ডেলটা

এদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, তীব্র গরমের মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টির এই সময়টাই এমন রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। এসব রোগের বেশিরভাগই ভাইরাসজনিত। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

কাশি, নাক দিয়ে পানি ঝরা, কিংবা জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এসি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm