শাখাওয়াতের শরীরে ২৬ সেলাই, সন্ত্রাসীদের টার্গেটে কেন স্কুলছাত্র?

স্কুল বন্ধ থাকায় সকালে বাবার ফলের দোকানে গিয়েছিলেন ছেলে৷ কিছু সময় পর রুটি কেনার জন্য ছেলে শাখাওয়াত হোসেনকে (১৫) হোটেলে পাঠান ফল ব্যবসায়ী বাবা ইকবাল হোসেন৷ রুটি আনতে গেলে মুখে মাস্ক পরা তিন যুবক তাকে ডেকে নিয়ে মিরসরাই পৌরসভা মার্কেটের ছাদে নিয়ে যায়। এরপর ছুরি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়৷ প্রায় ২০ মিনিট ধরে মার্কেটের ছাদে অজ্ঞান পড়ে থাকে শাখাওয়াত। পরে জ্ঞান ফিরলে মার্কেট থেকে নিচে নামে। এরপর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়৷

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে মিরসরাই উপজেলার সদরে অবস্থিত পৌরসভা মার্কেটের ছাদে এ ঘটনা ঘটে৷ আহত সাখাওয়াত হোসেন মিরসরাই সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী৷

সাখাওয়াতের বাবা ফল ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বলেন, উপজেলা সড়কের স্কুল মার্কেট ও পৌরসভা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা কক্সবাজার ভ্রমণে গেছেন৷ দুটি মার্কেটই বন্ধ৷ তাছাড়া সকালে বাজারে মানুষ খুব কম থাকে৷ ছেলের স্কুল বন্ধ৷ তাই সঙ্গে করে দোকানে নিয়ে এসেছিলাম৷ একসঙ্গে নাস্তা করবো তাই রুটি কিনতে পাঠিয়েছিলাম৷ হঠাৎ কী থেকে কী হয়ে গেল? স্কুলে বন্ধু কিংবা সহপাঠীদের সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল কিনা, ছেলে কিছু বলছে না৷

তিনি আরও বলেন, দিনদুপুরে মুখে মাঙ্কি ক্যাপ (শীতে পরিহিত মাস্ক) পরিধান করে ছুরি দিয়ে বুকে-হাতে-পিঠে এভাবে সন্ত্রাসী হামলা আমার জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ছেলের শরীরে ২৬টি সেলাই পড়েছে৷ আমি মিরসরাই থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি৷

স্থানীয় বাসিন্দা জাবেদ হোসাইন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমনিতেই খুবই নাজুক৷ দিনদুপুরে একজন ছাত্রকে হামলা খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আমরা আতঙ্কে দিন পার করছি৷

যোগাযোগ করা হলে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, শিক্ষার্থীর ওপর হামলার বিষয়ে জেনেছি৷ পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গেছে৷ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব৷ এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।

এএ/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm