লোহাগাড়ার চাষিদের ‘স্বপ্ন’ দেখাচ্ছে মাল্টা, আছে ভয়ও

শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ু মাল্টা চাষের জন্য উত্তম। বায়ুর আর্দ্রতা এবং বৃষ্টিপাত ফলের গুণাগুণকে প্রভাবিত করে। অন্যান্য ফল চাষে কম-বেশি ঝুঁকি থাকলেও, মাল্টা চাষ অনেকটাই সুবিধাজনক।

মাল্টা চাষের বিশেষ দিক হলো সারাবছরই গাছে ফল থাকে। এ কারণে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন লোহাগাড়ার অনেক চাষি ও বেকার যুবক।

মাল্টা চাষে যুক্ত হওয়াদেরই একজন উপজেলা কলাউজান ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমিনুল হক (৪৫)। তিনি পুটিবিলা ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকায় প্রায় ২ বছর আগে পাঁচ একর জমিতে গড়ে তুলে মাল্টার বাগান। অল্প সময়ে পান প্রত্যাশিত সাফল্যও।

উপজেলার পুটিবিলার পাহাড়বেষ্টিত এলাকার মাল্টাচাষি আমিনুল হক বলেন, প্রথমে ২-৩ শত গাছ দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে বাগানে মাল্টার চারা ৫০০টি। প্রতিটি চারা ৩০০ টাকা করে কিনেছি। গতবছর প্রথম ধাপে ২ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি। তবে এ বছর পোকামাকড় এবং কিছু দুর্বৃত্তের আতঙ্কে আছি।

এছাড়া সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা এবং সুদবিহীন ঋণ সুবিধা দেওয়া গেলে মাল্টা ব্যবসা আরও লাভজনক হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমার জায়গা ছাড়াও ১৬.০৯ একর বাফারজোন বাগান বন্দোবস্ত করেছি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে। যা বন বিভাগ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন (সিআরপিএআর) প্রকল্পের আওতায়। ভবিষ্যতে ওই জায়গায় সরকারিভাবে কোনো সুবিধা পেলে মাল্টার বাণিজ্যিক চাষে সফলতা আসবে।

লোহাগাড়া

আমিনুল হকের মাল্টাবাগানে সরেজমিন দেখা যায়, বাগানজুড়ে সব মাল্টার গাছ। তবে আগাছা বাড়ার

সঙ্গে সঙ্গে গাছের পাতায় ক্ষতিকর পোকা বাসা বেঁধেছে ব্যাপক হারে।

জানা যায়, মাল্টা প্রায় সব ধরনের মাটিতে জন্মে। তবে ছায়া পড়ে না এমন সুনিষ্কাশিত উর্বর এবং মধ্যম থেকে হালকা দো-আঁশ মাটি চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো।

উপজেলার পহরচাঁদা, পানত্রিশা, নারিশ্চা, পশ্চিম চুনতি, পুটিবিলা ও কলাউজানের পাহাড়ি এলাকায় দিন দিন বাড়ছে মাল্টা চাষ।

আরও পড়ুন : লোহাগাড়ায় অনন্য উদ্যোগ—মুহূর্তেই সমাধান হলো ২০ ভূমি মালিকের সমস্যা

এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, মাল্টা চাষে চারা অবশ্যই মানসম্মত হতে হবে। কৃষকরা মনে করেন গাছ লাগালেই ফল আসবে, আসলে তা কিন্তু নয়। এক্ষেত্রে স

রকারি প্রতিষ্ঠান হর্টিকালচার সেন্টার এবং বেসরকারি বিশ্বস্ত নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করা উত্তম।

তিনি বলেন, মাল্টা গাছের প্রধান শত্রু হচ্ছে আগাছা। কারণ আগাছা খাবারে ভাগ বসায়। তাই মাল্টা চাষিদের বাগান সবসময় আগাছামুক্ত এবং নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে।

ক্ষতিকর পোকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছের পাতারোগের বিষয়ে চাষিরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। যেহেতু তিনি পুটিবিলা পহরচাঁদা এলাকা নিয়ে কাজ করেন। এরপরও যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। এ বিষয়ে মাল্টা চাষিদের প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করা হবে।

ডিসি
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm