লাভের মৌসুমেই লোকসান—ফিশিং ট্রলারে সহস্র জেলের সর্বনাশ

সীতাকুণ্ডের সাগরে ফিশিং ট্রলারে পুড়েছে জেলেদের কপাল। পাতানো খুঁটি জালের সীমানায় ফিশিং ট্রলার ঢুকে পড়ায় কয়েক হাজার জেলের জাল ছিঁড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানায় বড় কুমিরা জেলে পল্লীর মৎস্যজীবিরা।

তারা জানান, ইলিশ মৌসুমে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার কথা। কিন্তু কর্ণফুলী ও সন্দ্বীপ থেকে আসা বিভিন্ন ফিশিং ট্রলার চলাচলের কারণে জেলেদের পাতানো জালগুলো ছিঁড়ে নষ্ট হয়ে গেছে । এসব জালের হদিস পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমানে লাভের মৌসুমে লোকসান গুণতে হবে দ্বিগুণ।

বড় কুমিরা ফেরিঘাটের জেলে নেতা অনীল জলদাস বলেন, সরকারের নির্দেশে ৬৫ দিন সাগরে ইলিশ শিকার বন্ধ ছিল। জাল মেরামতসহ নানা প্রস্তুতি নিয়ে কর্ণফুলীর মোহনায় সন্দ্বীপ চ্যানেলের সীতাকুণ্ডে গত ২৪ জুলাই থেকে ইলিশ শিকার শুরু করি। কিন্তু বড় বড় ফিশিং ট্রলারগুলো আমাদের পাতানো খুঁটি জালের সীমানায় ঢুকে যাওয়ায় জালগুলো ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। তাই আমরা জেলেরা এখন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

তিনি বলেন, আমার দুটি ট্রলারে ৬০টি জাল, ফিরিন জলদাসের ৩০টি, ভুট্টু দাসের ৬০টি, অনাথ বন্ধুর ৩০টি, সফি মেম্বারের ৬০টি, মিন্টু দাসের ৬০টি, জয়নালের ৬০টি, নারায়ণের ৩০টি, ইসলামের ৬০টি, সুজন দাশের ৩০টি, ভজো দাশের ৩০টি, সঞ্জিত দাসের ৩০টি, সোহাগ দাসের ৬০টি, অর্জুন দাসের ৩০টি, রামপদ জলদাসের ৩০টি, সুভাস দাসের ৩০টি ,সোনা রামের ৩০টি, নিরঞ্জনের ৩০টি, অসিম দাসের ৬০টি, সমীরণ দাসের ৩০টি, ভজন দাশের ৩০টি, পাঁচকড়ি জলদাসের ৩০টি, মো. আলীর ৩০টি, ছলুর ৬০টি, গুনো দাসের ৬০টি, রতন দাসের ৩০টি, মনো দাসের ৩০টি, বু্ইজ্জা দাসের ৩০টিসহ কাট্টলী, বার আউলিয়া ও অন্যান্য এলাকার কয়েক হাজার জেলের পাতানো জালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জেলেরা জানান, একটি জাল কিনতে ১০ হাজার টাকা লাগে। অন্যান্য সরঞ্জামাদি মিলে খরচ পড়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা। ছিঁড়ে যাওয়া এসব জাল এখন মেরামত করা সম্ভব নয়। এ ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে উঠবে এ নিয়ে চিন্তিত জেলেরা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন তারা।

উত্তর চট্টলা উপকূলীয় জলদাশ কল্যাণ সমবায় ফেডারেশন সভাপতি লিটন দাস বলেন, রূপালি ইলিশ শিকারে জীবনবাজি রেখে মৎস্যজীবিরা গভীর সাগরে মাছ শিকারে যায়। কিন্তু বড় কিছু ফিশিং ট্রলার মৎস্যজীবিদের জালপাতার সীমানায় ঢুকে পড়ে। এতে হাজার হাজার জাল ছিঁড়ে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে লাভের চেয়ে বেশি লোকসান গুণতে হয় মৎস্যজীবিদের ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ‘ফিশিং বোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’

আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm