‘লঙ্কাকাণ্ড’—সমুদ্রসৈকতে ঘোড়ার মৃত্যু নিয়ে মালিক-কর্তৃপক্ষের লুকোচুরি

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দেয় ‘নানা রঙের ঘোড়া’। তবে করোনাকালে এই ঘোড়ার মালিকরাই পড়েছেন ভীষণ বিপদে। হারাধনের গল্পের মতো একের পর এক ঘোড়া মারা যাচ্ছে। গত দুই মাসে মারা গেছে ৬টি ঘোড়া। তবে ঘোড়ার মৃত্যুর কারণ নিয়ে আছে ভিন্নমত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২২ জনের একটি সমিতি রয়েছে ঘোড়া মালিকদের। পর্যটকদের বিনোদনের জন্য সমিতির অন্তর্ভুক্ত ৫৫টি ঘোড়া রয়েছে। সমিতির বাইরে আছে আরো ১০টি। পর্যটকদের পাশাপাশি এসব ঘোড়া বিভিন্ন উৎসব ও বিয়েবাড়িতে ব্যবহার করে নিজেদের সংসার এবং ঘোড়ার রক্ষণাবেক্ষণ খরচ চালান ঘোড়া মালিকরা।

চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে লকডাউন ঘোষণা করা হলে সংকটে পড়ে ঘোড়ার মালিকরা। পর্যটকশূন্য কক্সবাজারে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায় তাদের। ফলে সংসার ও ঘোড়ার খরচ চালাতে গিয়ে কষ্টে পড়েন। এরমধ্যে খাবারের অভাবে মারা যায় তিনটি ঘোড়া। কুকুরের কামড়ে অসুস্থ হয়ে দুটি এবং সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় আরো একটি ঘোড়া।

কক্সবাজার ঘোড়া মালিক সমিতির সভাপতি আহসান উদ্দিন নিশান আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, লকডাউনে খাদ্যের অভাব ও নানা কারণে এ বছর ছয়টি ঘোড়া মারা গেছে। এর মধ্যে কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়া এলাকার আমির হোসেনের একটি, মো. আলমের একটি ও আকতার হোসেনের একটি ঘোড়া খাবারের অভাবে মারা গেছে। শহরের পেশকারপাড়া এলাকার মো. কাদেরের দুটি ঘোড়া অসুস্থ হয়ে এবং রুবেলের একটি ঘোড়া জেলগেট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।

নিশান আরো বলেন, প্রতিটি ঘোড়ার মূল্য ৪৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা। খাদ্য সংকট হওয়ার কারণে কিছু মালিক ঘোড়া শহরে ছেড়ে দিয়েছেন। তাছাড়া শহরে ঘাসেরও সংকট রয়েছে। ফলে খাবারের অভাবে মারা যাচ্ছে ঘোড়া। কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার ঘোড়া মালিক আব্দুল মজিদ লিটন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমার ছয়টি ঘোড়া আছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সৈকতে পর্যটক নিষিদ্ধ করার পর খাদ্য সংকটে পড়ি। সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া ১৫ বস্তা ভুষি ১৫ দিনে শেষ হয়ে গেছে। তবে আমার ঘোড়াগুলো এখনো সুস্থ আছে।

অসুস্থ হয়ে দুটি ঘোড়ার মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, আমার আটটি ঘোড়া। এর মধ্যে দুটি মারা গেছে, দুটি অসুস্থ। প্রতিদিন একটি ঘোড়ার ২০০-৩০০ টাকার খাবার লাগে। কিন্তু এ সময়ে আয়-রোজগার না থাকায় আমাদের দুর্দিন চলছে। লকডাউনে আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।

সমিতিপাড়ার বাসিন্দা ও ঘোড়ার মালিক মো. আলম বলেন, আমার একটি ঘোড়া মারা গেছে। লকডাউনে খাদ্য সংকটে পড়ে অসুস্থ হয়ে ঘোড়াটি মারা যায়।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের (পর্যটন ও প্রটোকল) সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ ইসলাম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, সৈকতে পর্যটকদের বিনোদনের জন্য ২২ জন ঘোড়া মালিককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে করোনার কারণে সৈকত ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে মালিকদের আয় বন্ধ হওয়ায় ঘোড়াগুলোও খাদ্য সংকটে পড়ে। এজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভুষি ও ছোলা বিতরণ করা হয়েছে। খাদ্য সংকট থাকার কথা নয়।

কক্সবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. অসিম বরণ সেন বলেন, খাদ্যের অভাবে ঘোড়া মারা যাওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। এটি মিথ্যা কথা। বার্ধক্যজনিত ও নানা অসুখে এক বছরে তিনটি ঘোড়া মারা গেছে। খাদ্যের অভাবে এত ঘোড়া মারা যাওয়ার খবর সঠিক নয়। কারণ আমরা ঘোড়া মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের ঘোড়াগুলোকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। আগামীতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

ডিসি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm