রেলে মাইলেজ জটিলতা—৪ দপ্তরে চিঠি চালাচালি, রেল বন্ধের হুমকি

মাইলেজ নিয়ে জটিলতা নিরসনের দাবিতে আবারো বিক্ষোভ শুরু করেছে ট্রেনচালক ও শ্রমিক-কর্মচারীরা।

মূল বেতন থেকে মাইলেজ বেশি হতে পারবে না— এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরেও বিক্ষোভ করেছিল কর্মচারীরা। এর এক মাস পর আবারো একই দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তারা।

মাইলেজ নিয়ে জটিলতা নিরসন না হলে রেল চালানো বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ নেতারা।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) বিকাল ৫টার মধ্যে বেতন পরিশোধ করার দাবি জানিয়ে চার দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন: ‘রেলওয়েতেই রাজত্ব’—নিউজ করলে খুন করার হুমকি কথিত আওয়ামী লীগ নেতা হেলালের

বুধবার পাহাড়তলীর লোকোশেডে জরুরি সভা শেষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলপথ ব্যবস্থাপক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তার দপ্তরে রানিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এ চিঠি পাঠানো হয়।

মাইলেজ বেতনের দাবিতে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকের (জিএম) কার্যালয় ঘেরাও, রেল চালানো বন্ধ রাখা এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এ কর্মসূচি দিয়েছেন বলে জানান সংগঠনের নেতারা।

জানা গেছে, ব্রিটিশরা থাকাকালীন সময় থেকে রেলওয়ে রানিং কর্মচারীরা রেলওয়ে কোডে ‘পার্ট অব পে’ হিসেবে নিয়মিত মাসিক বেতন ও অর্জিত মাইলেজ সংযুক্তভাবে পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালে হঠাৎ মাইলেজ বেতন বাজেট থেকে আলাদা করে টিএ খাতে সংযুক্ত করা হয়। টিএ খাতে অর্থের বরাদ্দ কম থাকায় মাইলেজ নিয়ে সৃষ্টি হয় নানা জটিলতা। পরে জটিলতা নিরসনে ‘মাইলেজ ভাতা’ নামে আলাদা কোড খোলা হয়। যেখানে আইবাস প্লাস প্লাস সিস্টেমে রানিং কর্মচারীদের অর্জিত মাইলেজ সর্বোচ্চ ৩ হাজার মাইল বা ৩০ দিনের বেশি হতে পারবে না বলে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে রানিং স্টাফদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।

গত বছরের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শামীম বানু শান্তি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চলন্ত ট্রেনে দৈনিক ১০০ কিলোমিটার কিংবা তার চেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করলেও ওইদিনের বেতনের ৭৫ শতাংশের বেশি মাইলেজ ভাতা পাবেন না সংশ্লিষ্ট রানিং কর্মচারীরা। আর মাস শেষে এই মাইলেজ মূল বেতনের বেশি হবে না।

এই প্রজ্ঞাপন জারির পর ৪ নভেম্বর ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ জানান লোকোমাস্টাররা।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম রেলে ‘স্নেহাশীষের বদলির বাণিজ্য’—চিঠি গেল ডিজির কাছে

এরপর ডিসেম্বরে তারা বিক্ষোভ শুরু করে। পরে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর রানিং কর্মচারীরা কাজে ফিরেন। কিন্তু কর্মচারীদের ডিসেম্বর মাসের নিয়মিত বেতন বিল হিসাব বিভাগ থেকে ফেরত পাঠানোর পর আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠে রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. মজিবুর রহমান ভূঁঞা আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমরা ঈদ-পূজাতে ছুটি পাই না। আমাদের শুক্র-শনিবার নেই। দিন-রাত কাজ করে যদি মাইলেজ না পাই তাহলে আমরা কী করতে পারি। মাইলেজ ৩০ দিনের বেশি হবে না, এমন ঘোষণার পর আমরা বিক্ষোভ করি। পরে এ বিষয়ে সমস্যার সমাধানে রেলমন্ত্রী ও সচিব আমাদের কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। ডিসেম্বর মাসের নিয়মিত বেতন হিসাব বিভাগ থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাই বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার মধ্যে ডিসেম্বরের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা না হলে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।

সিএম/ডিসি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm