রেলের জায়গা দখল করে রাতারাতি গড়ে তোলা হয় একের পর এক স্থাপনা। এই দখলের আড়ালে রয়েছে কিশোর গ্যাং। তাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ একাধিকবার উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলেও দেখানো হচ্ছিল মবের ভয়। কিশোর গ্যাংয়ের এমন উৎপাতে অতিষ্ঠ ছিল সিআরবি এলাকার গোয়ালপাড়ার বাসিন্দারাও। তবে অবশেষে শেষ হয়েছে রেলের জায়গায় জমিদারি।
একাধিক সূত্র জানায়, রেলের জায়গায় গড়ে তোলা দোকানগুলো জমজমাট হয় রাতের আঁধারে। রাত যত বাড়ে তত বাড়ে মোটরসাইকেলে আসা যুবকদের আনাগোনা। গভীর রাতেও খোলা থাকে এসব দোকান। কেউ এর প্রতিবাদ করলেই আক্রমণ করতো কিশোর গ্যাং সদস্যরা। তাই ভয়ে মুখ খুলতো না কেউ।
ভয়ঙ্কর এই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন এক হিন্দু যুবক। প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা মেরে ‘মাফিয়া ডন’ হয়ে বসে আছে ওই যুবক। রেলের অন্তত ১০ কোটি টাকার সম্পদ দখল করে জমিদারি চালিয়ে যাচ্ছিল ওই কিশোর গ্যাং সিন্ডিকেট। তবে এতকিছুর পরও সরকারি সম্পদ উদ্ধারে অনড় ছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সঙ্গে ছিল রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)।
এদিকে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুবক্তাগীনের নির্দেশে আজ (১৩ জানুয়ারি) সিআরবিতে অভিযান চালায় রেলওয়ে। অভিযানে ২০ কোটি টাকা মূল্যের ১ একর বেদখল ভূমি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রেলওয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তা নুর ই জান্নাত ও খোরশেদ আলম।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযানের শুরুতেই আভিযানিক দলকে কিশোর গ্যাংয়ের বাধার মুখে পড়তে হয়। ওই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেবের শ্বশুরবাড়ি নামের একটি অবৈধ দোকান উচ্ছেদে বাধা দেয়। তবে বাধা উপেক্ষা করেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় অবৈধ সব স্থাপনা। এ সময় আরএনবিকে সহায়তায় এগিয়ে আসে স্থানীয়রা লোকজনও।
জানা যায়, নগরের সিআরবি সাত রাস্তার মোড়ে রেলের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয় একের পর এক অবৈধ দোকান। সেখানে মাদক বাণিজ্যের পাশাপাশি ছিল ছিনতাইকারীদের গোপন আস্তানা। আজ রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পদ দপ্তর (সদর) ও পাহাড়তলী বিভাগীয় ভূসম্পদ দপ্তরের সমন্বয়ে অভিযান গুড়িয়ে দেওয়া হয় অবৈধ এসব স্থাপনা।
আলোকিত চট্টগ্রাম


