রিমান্ডে নেওয়া হলো খুনি আবিরের মা-বাবাকেও

শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আবির আলীর বাবা আজহারুল ও মা আলো বেগমের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম দ্বিতীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. অলি উল্লাহর আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে আবির আলীর বাবা আজহারুল, মা আলো বেগম ও বোনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

আইনজীবী তৌহিদুর রহমান খান তাহিম বলেন, শিশু আয়াত হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আবির আলীর বাবা আজহারুল ও মা আলো বেগমকে গ্রেপ্তার করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে পিবিআই। শুনানি শেষে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আইনজীবী আরও বলেন, আবিরের বোনকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রেখে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন ষষ্ঠ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত ।

এর আগে শনিবার (২৬ নভেম্বর) পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে আবির আলীর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেনের আদালত। দুদিন রিমান্ড শেষে সোমবার (২৮ নভেম্বর) আবির আলীর ফের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হালিমের আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Yakub Group

উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিস এলাকার বাসা থেকে পার্শ্ববর্তী মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত। নিখোঁজের পরদিন আয়াতের বাবা সোহেল রানা ইপিজেড থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেও সন্ধান পায়নি মেয়ের।

নিখোঁজের দশ দিন পর ২৫ নভেম্বর রাতে গ্রেপ্তার হওয়া আবির পিবিআইয়ের কাছে শিশু আয়াতকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে। আবির শিশু আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা জানায় পিবিআইকে।

আয়াতের বাবা সোহেল রানার করা মামলায় পিবিআই আবিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে দশ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মুক্তিপণের জন্যই গ্রেপ্তার আবির আলী আয়াতকে অপহরণ করে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন।

অপহরণের সময় শিশু আয়াত চিৎকার করায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং পরে লাশ গুম করতে আয়াতকে ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেয় আবির।

আয়াত ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানা ও সাহিদা আক্তার তামান্না দম্পতির মেয়ে।

আরএস/এসআই

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm