চবিতে লঙ্কাকাণ্ড—রাতের আঁধারে ২ ছাত্রী হেনস্তা, শনাক্ত ৪ ছাত্র—প্রক্টরের কাছে বিচার

শহর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আবাসিক হলে ফিরছিলেন তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের দুই ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটে প্রবেশ করতেই প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সদস্যদের সামনে পড়েন ছাত্রীরা।

দুই ছাত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, কোথায় থেকে আসা হচ্ছে? বিনয়ের সঙ্গে তাঁরা জানান, গাড়ি না পাওয়ার কারণেই শহর থেকে ফিরতে দেরির  কথা। চবির প্রক্টরিয়াল বোর্ড সদস্যরা জানতে চান— আবাসিকে যেতে পারবে কিনা। না পারলে তাদের সহযোগিতা নেওয়ার কথাও জানানো হয় তাদের। কিন্তু ছাত্রীরা যেতে পারবে বলেই রওনা হয় আবাসিকের দিকে।

১৬ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত তখন ১১ টা ৪০ মিনিট। পায়ে হেঁটেই যাচ্ছিল ওই দুই ছাত্রী। আলাউল হল আর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মাঝপথেই দাঁড়িয়ে ছিল চার তরুণ। তাদের দেখে ডাক দিয়ে বলেন, এই যে আপু দাঁড়ান। প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন— কোথায় যাচ্ছেন এতরাতে?

ছাত্রীরা বললেন, শহর থেকে ফিরছি, আবাসিকে যাচ্ছি। ওই তরুণরা জানতে চান, এত রাতে কেন, বাইরে কী করেন, কোন বর্ষে পড়েন। ছাত্রীরা তাদের বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেন— প্রক্টর স্যারের সঙ্গে আসার সময় সাক্ষাৎ হয়েছে। স্যারকে আমাদের সমস্যার কথা বলাও হয়েছে।

আরও পড়ুন: হত্যা না আত্মহত্যা—ওড়নায় ঝুলেছিল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর লাশ

হঠাৎ চার তরুণের মধ্যে লুঙ্গি পড়া এক তরুণ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং বলেন, প্রক্টর স্যার কে?  আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, আমরা ছাত্রলীগের ছেলে। আমাদের না জানিয়ে এখান থেকে নড়তেও পারবেন না। তখন ছাত্রীরা জানতে চান, আপনারা কোন বর্ষের? সঙ্গে সঙ্গে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মারমুখী আচরণ শুরু করেন এবং ধমক দিয়ে ভয় দেখান।

ঠিক ওই সময়েই ঘটনাস্থল দিয়ে যাচ্ছিল প্রক্টরের গাড়ি। এ সময় ছাত্রীরা চিৎকার দিলে প্রক্টর গাড়ি থামিয়ে তরুণদের ধরার চেষ্টা করেন। দৌড়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও ধরা পড়ে একজন। এ সময় প্রক্টর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার পরিচয় শনাক্ত করেন।

জানা যায়, ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী চবির যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের অধ্যায়নরত। আর অভিযুক্ত চারজনই চবির প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাদের নাম জুনায়েত, ইমন, রাজু এবং রুবেল। তারা সবাই ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন আটক জুনায়েত। তাঁর তথ্যমতে, তিনি আরবি বিভাগে এবং বাকি তিনজন হলেন- ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চবি ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ঘটনা আপনি যেমন শুনেছেন, আমিও তেমন শুনেছি। এর বেশি কিছু জানি না। তবে ঘটনার সঙ্গে যাদের কথা শোনা যাচ্ছে, তারা সবাই প্রথম বর্ষের ছাত্র, নতুন। তাদের আমার চেনারও কথা নয়। এছাড়া জড়িতরা যেই হোক না কেন শাস্তি হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এক ছাত্রী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, পরদিন শুক্রবার হওয়ায় আমরা প্রক্টর স্যারের কাছে অভিযোগ দিতে পারিনি। তবে রোববারই অভিযোগ জমা দেব। এরপরই আইনগত আশ্রয় নেব।

তিনি বলেন, প্রক্টর স্যারের কাছে অভিযোগ না দিতে আমাকে মোবাইলে হুমকি দিচ্ছে। বলা হচ্ছে, এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে ক্ষতি হবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘লজ্জা—ক্ষোভে’ মৃত্যুর পথে গেল প্রবর্তক সংঘের হোস্টেলে থাকা ছাত্রী

অনুসন্ধানে জানা যায়, অর্পন দাস নামের এক ছাত্র হুমকি দিচ্ছে ছাত্রীদের। অর্পন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে চবির প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাস পর্যবেক্ষণ করছিলাম। কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে দিকে যাওয়ার সময় দুই ছাত্রী আমাদের গাড়ি থামায় এবং তাদের হেনস্তার কথা বলেন। গাড়ি থামিয়ে হেনস্তার সঙ্গে জড়িতদের ধরার চেষ্টা করলে তিনজন পালিয়ে যায়। তবে একজনকে আটক করি। আটক জুনায়েদ চবির প্রথমবর্ষের ছাত্র। তার কাছ থেকে ঘটনাস্থলে থাকা ছাত্রদের নাম ও পরিচয় জানা গেছে। এ সময় তার আইডি কার্ড চাওয়া হলেও সে দিতে পারেনি। তবে তার মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। তাদের রোববার যোগাযোগ করতে বলেছি। এদিন প্রক্টরিয়াল বোর্ডের বৈঠকে বসবে। এরপরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আলোকিত চট্টগ্রাম

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm