প্রতীক বরাদ্দের রাতেই বাঁশখালী পৌরসভা কার্যালয়ে ‘রহস্যের’ আগুন, এখনই জিডি নিবে না পুলিশ

বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের রাতে ‘রহস্যের’ আগুনে পুড়েছে বাঁশখালী পৌরসভা কার্যালয়। এতে আহত হয়েছেন পাহারাদার ছলিম উল্লাহ।

মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পর বর্তমান মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিমুল হক চৌধুরী কার্যালয়ে আসেননি।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ঘণ্টাব্যাপী আগুনে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী, বিদ্যুৎ সংযোগ ও সিসিটিভি ক্যামেরার তার পুড়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে কার্যক্রম।

আরও পাড়ুন: তৃতীয়বারের মতো আগুনে পুড়ল মোশাররফ স্টোর—কারণ এখনো অজানা

এদিকে আগুনে ৫ লাখ টাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করে পাহারাদার ছলিম উল্লাহ থানায় সাধারণ ডায়েরির আবেদন করেছেন। তবে বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

আগামী ১৬ জানুয়ারী বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচন। গত মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পান। প্রতীক পেয়ে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেন। কিন্তু ওইদিন রাতেই আগুন লাগে পৌরসভা কার্যালয়ের নিচতলায়। তবে আগুনের এ ঘটনাকে এলাকাবাসী ‘রহস্যের’ চোখে দেখছেন। এ নিয়ে এলাকায় দিনভর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলেছে সমানতালে।

জানা গেছে, নানা দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিভিন্ন অপরাধসহ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ভবনের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত বর্তমান মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিমুল হক চৌধুরী পৌরসভা কার্যালয়ে আগুন লাগার পরও বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকাল পর্যন্ত কার্যালয়ে আসেননি। এছাড়া তাঁর ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

যোগাযোগ করা হলে বাঁশখালী পৌরসভার প্যানেল মেয়র দিলীপ চক্রবর্তী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, মেয়র মহোদয় জরুরি কাজে ঢাকায় আছেন। তিনি ঢাকা থেকে ইতিমধ্যে রওনা দিয়েছেন। বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি এবং পাহারাদারের হাত পুড়ে গেছে।

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে হঠাৎ বিস্ফোরণ, আগুনে পুড়ল ৪ শ্রমিক

বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আজাদুল ইসলাম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, পৌরসভা কার্যালয় থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু আগুন লাগার প্রায় ১ ঘণ্টা পর আমাদের কাছে খবর আসে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আগুনের ঘটনায় পৌরসভার পাহারাদার থানায় জিডির আবেদন করেছেন। তবে ঘটনাটি ‘রহস্যজনক’ মনে হওয়ায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও নানা বিষয় তদন্ত করে জিডি গ্রহণ করা হবে। এ নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

উজ্জ্বল/আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm