রমজানের বাজার গরম—ফায়দা লুটতে ‘ফাঁদ’ পেতেছে নামিদামি মার্কেটও

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে নগরের অভিজাত মার্কেট ও শপিংমলে। এছাড়া জমে উঠেছে ফুটপাতের বাজারও। সবখানেই দিন-রাত জমজমাট বিকিকিনি চলছে। ক্রেতার ভিড় বাড়ায় খুশি দোকান মালিক ও বিক্রেতারা।

এদিকে বন্ধের দিন শুক্রবার ও শনিবার ভিড় আরও দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন মার্কেটে সপ্তাহের প্রতিদিনই খোলা থাকছে ক্রেতাদের কেনাকাটার সুবিধার্থে।

অপরদিকে রমজানের জমজমাট বিকিকিনি ঘিরে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী এক দাম ও বিদেশি পণ্যের অজুহাতে ক্রেতাদের পকেট কাটছে। তবে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাঠে রয়েছে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার। সম্প্রতি ভোক্তা অধিকারের অভিযানে নগরের নামিদামি কয়েকটি দোকানকে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: হেডফোন না পেয়ে এ কী করল স্কুলছাত্রী!

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শপিংমল, মার্কেট ও ফুটপাত সবখানেই ক্রেতার উপচেপড়া ভিড়। বিক্রেতাদের যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। নগরের ষোলশহর শপিং সেন্টার, নাসিরাবাদ স্যানমার ওশান সিটি, ফিনলে স্কয়ার, মিমি সুপার মার্কেট, সেন্ট্রাল প্লাজা, ইউনোস্কো সেন্টার, আমিন সেন্টার, নিউমার্কেট, রিয়াজুদ্দিন বাজার, টেরীবাজার, তামাকুমুন্ডি লেইন, হকার মার্কেট, আগ্রাবাদ আখতারুজ্জামান সেন্টার, সিঙ্গাপুর মার্কেটসহ প্রতিটি মার্কেটেই চলছে জমজমাট বেচাকেনা ।

এদিকে ক্রেতার চাপে বিভিন্ন নামিদামি মার্কেটের সামনের রাস্তায় তৈরি হচ্ছে যানজট। এতে অনেকটা সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। মানুষের বাড়তি চাপের কারণে যানজট নিরসনে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত দুবছর করোনার কারণে কোন ব্যবসায় হয়নি। আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় তারা সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছেন। ক্রেতাদের ভিড় প্রতিদিন বাড়ছে। কেনাকাটাও মোটামুটি জমে উঠেছে।

এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার পণ্যের দাম অনেক বেশি। এছাড়া কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিদেশি পণ্যের গায়ে বেশি দামের ট্যাগ লাগিয়ে প্রতারণা করছে। দেশি পণ্যের দামও বেশি হাঁকানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘নেতার’ প্রশ্রয়েই যত অপকর্ম পটিয়ার জমিরের, ২৯ মামলা কাঁধে—তিনিও ‘নেতা’

নগরের মিমি সুপার মার্কেটে আসা আবাসন ব্যবসায়ী রফিকুল আলম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, একটি ভারতীয় শাড়ির দাম হাঁকানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এ দাম শুনে আমি তো হতবাক। শাড়ির মতো অন্যান্য সবকিছুর দাম এখানে অনেক বেশি।

যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসনের স্টাফ অফিসার প্লাবন কুমার আলোকিত বলেন, প্রতিদিন নগরে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচটি টিম বাজার মনিটরিং করছেন। অভিযোগ পেলেই অভিযান করে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। তবে আমরা জরিমানার চেয়ে ব্যবসায়ীদের সচেতনতার ওপর বেশি জোর দিচ্ছি। ব্যবসায়ীরা সচেতন হলে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রি ও প্রতারণা বন্ধ হয়ে যাবে।

একই প্রসঙ্গে ভোক্তা অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. দিদার হোসেন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমরা প্রতিদিন অতিরিক্ত দাম আদায়ের অনেক অভিযোগ পাচ্ছি। নগরের স্যানমার ও মিমি সুপার মার্কেটের নামিদামি ব্র্যান্ডশপকে বিভিন্ন অপরাধে জরিমানা করেছি। এ অভিযান চলমান থাকবে।

আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm