চট্টগ্রামে রক্তাক্ত র‌্যাব—বারইয়ারহাটে দোকানপাট বন্ধ, খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার

মিরসরাই সাদা পোশাকে থাকা দুই র‌্যাব সদস্য ও একজন সোর্সের ওপর হামলার ঘটনায় বারইয়ারহাট পৌরসভার ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হামলার পর থেকে বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। তবে ঘটনার পর এখনও কোনো মামলা হয়নি।

ব্যবসায়ীদের দাবি, গত বুধবার রাতে ও আজ বৃহস্পতিবার র‌্যাব পরিচয়ে দোকানদারসহ এলাকার ১৫ জনকে নিয়ে গেছে র‌্যাব। এদের মধ্যে কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে র‌্যাব-৭ এর পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার তথ্য দিতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে তিন র‌্যাবকে ‘গণপিটুনি’, হেলিকপ্টারে নিল সিএমএইচে

Yakub Group

বৃহস্পতিবার সকালে বারইয়ারহাট বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, র‌্যাব-পুলিশের অন্তত ১৫/২০টি গাড়ি বাজারে বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়েছে। কয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ দোকান বন্ধ।

জানা গেছে, হামলার ঘটনায় পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ-র‌্যাব এমনকি স্থানীয়রা কেউ এ ঘটনার বিষয়ে মুখ খুলছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আহত দুই র‌্যাব সদস্যের দুটি অস্ত্র ঘটনার সময় খোয়া যায়। পরে হৃদয় নামে একজনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি অস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব। অবশ্য এ বিষয়ে র‌্যাবের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাজারের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত উল্লাহ জানান, র‌্যাব সদস্যরা গতকালের (বুধবার) ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫/২০ জনকে নিয়ে গেছে।

বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম খোকন বলেন, বারইয়ারহাটের ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক কাউকে যেন ছাড় দেওয়া না হয়। আমার পক্ষ থেকে র‌্যাব ও পুলিশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন: পুলিশের কব্জি কেটে পালানো সেই আসামি ধরা খেল র‍্যাবের গুলিতে আহত হয়ে

যোগাযোগ করা হলে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর হোসেন মামুন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, র‌্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কিনা জানি না। তবে র‌্যাব নিজেরা অভিযান পরিচালনা করছে। আমরা তাদের তদন্তে সহযোগিতা করছি। গতকালের (বুধবার) ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।

র‌্যাব-৭-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার জানান, আমাদের একটি গোয়েন্দা দল সাদা পোশাকে মাদকের তথ্য সংগ্রহের জন্য বারইয়ারহাট এলাকায় যায়। এসময় র‌্যাব সদস্যদের উপস্থিতি পেয়ে দুষ্কৃতিকারী ও মাদক ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় দুই র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হয়। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা সিএমএইচে পাঠানো হয় এবং সোর্স মো. পারভেজকে ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আজিজ/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm