‘মেজর সিনহা’ হত্যা—ওসি প্রদীপের ফাঁসি চেয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন লোকজন

আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার ১ম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সোমবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টায় শেষ হয়।

আদালতে ৩ জন সাক্ষী উপস্থিত থাকলেও প্রথমদিন এক নম্বর সাক্ষী মামলার বাদী, সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে জবানবন্দি দেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মোজাফফর আহমদ, এপিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমদ বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।

সাক্ষ্য গ্রহণকালে মামলার ওসি প্রদীপসহ ১৫ জন আসামিও আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তবে মামলার প্রধান আসামি এসআই লিয়াকত আলী ও দুই নম্বর আসামি ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশের আইনজীবীরা বাদীকে জেরা করবেন মঙ্গলবার।

আরও পড়ুন: নতুন তারিখ নির্ধারণ: মেজর সিনহা হত্যার সাক্ষ্যগ্রহণ ২৩-২৫ আগস্ট

মামলার বাদী ও নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে বিস্তারিত বিবরণ জেনে ২০২০ সালের ৫ আগস্ট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আজকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথমদিনে আমি মূলত জবানবন্দি দিয়েছি। আমাকে বিভিন্ন আসামিদের আইনজীবীরা জেরা করেছে। আমি তার জবাব দিয়েছি। এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতসহ সকল আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। আশা করছি আমি ন্যায়বিচার পাবো।

মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মামলার বাদী মেজর সিনহার বড়বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস ১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। অন্য আসামিদের আইনজীবীরা তাদের জেরা শেষ করেছে। তবে ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতের জেরা হবে মঙ্গলবার।’

এর আগে কড়া নিরাপত্তায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে ওসি প্রদীপসহ ১৫ জন আসামিকে সকাল ১০টার দিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে প্রদীপের হাতে নির্যাতিতদের স্বজনরা নানা শ্লোগান দিতে থাকেন।

এর আগে আদালতে সমন দেওয়া ৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩ জন সাক্ষী যথাক্রমে বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস, টেকনাফের শামলাপুরের ডা. মৃত ফজল করিমের ছেলে মো. আবদুল হামিদ এবং শামলাপুরের মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র মো. ইউনুচ সমন পেয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সোমবার সকালে আদালতে হাজিরা দেন।

আরও পড়ুন: মেজর সিনহা হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু, চলবে আরও ২ দিন

সোমবার সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালত থেকে সমন দেওয়া সাক্ষী মেজর (অব:) সিনহার ‘জাস্ট গো’ডকুমেন্টারি টিমের সদস্য সাহিদুল ইসলাম প্রকাশ সিফাত, টেকনাফের মিনাবাজারের কাজী ঠান্ডা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী অনুপস্থিত ছিলেন। সোমবার হাজিরা দেওয়া বাকি ২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যও আদালতে নেওয়া হবে।

আদালতে শুরু হওয়া সাক্ষ্যগ্রহণ ২৪ ও ২৫ আগস্ট চলবে। মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রথম ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদালত থেকে সমন দেওয়া হয়েছে বলে জানান কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সেরেস্তাদার নুরুল কবির। প্রতিদিন ৫ জন করে সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করার কথা রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) সন্তোষ বড়ুয়া বলেন, গত ২৭ জুন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল মামলার চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে আদেশ দিয়েছিলেন। এ মামলায় ৮৩ জন চার্জশিট ভুক্ত সাক্ষী রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাতে সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার—টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। হত্যার পাঁচদিনের মাথায় ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বলরাম/ডিসি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm