‘মৃত্যুর ঝুঁকি’ নিয়ে উঁচু—নিচু পাহাড় ঘিরেই ৩০ হাজার মানুষের দিনরাত

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ের চূড়া ও পাদদেশে গড়ে উঠেছে অন্তত ৯ হাজার বসতঘর। এতে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও টনক নড়ছে না এখানকার বাসিন্দাদের।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ে বসবাসরত বাসিন্দাদের অন্যত্র সরতে মাইকিং করা হলেও কার্যত কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। মৃত্যুভয়কে পাত্তা না দিয়ে পাহাড়ের চূড়া ও পাদদেশে থাকছেন বাসিন্দারা।

সরেজমিন দেখা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের কমিউনিটি সেন্টার, জঙ্গল বেতাগী এলাকায় পাহাড় কেটে প্রভাবশালীরা মাটি বিক্রি করছে। একইভাবে উপজেলার উত্তর রাঙ্গুনিয়ার ১ নম্বর রাজানগর, ১৪ নম্বর দক্ষিণ রাজানগরের মুহাম্মদপুর, বাইশ্যারে ডেবা, লেলিঙার টিলা, ১৩ নম্বর ইসলামপুরের মঘাছড়ি, রইস্যাবিলে পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে বসতি। ১৫ নম্বর লালানগরের চাঁদের টিলা, ছনখোলা বিল, পেইট্ট্যাঘোনা, আগুনিয়া চা বাগান, হোসনাবাদ ইউনিয়নের নিশ্চিন্তাপুর, ফকিরারটিলা, ফুইট্ট্যাগোদা, পোমরা, কোদালা, পারুয়া ইউনিয়নের জঙ্গল পারুয়া, সরফভাটা, শিলক ও পদুয়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি তৈরি করেছে  প্রায় ৮-৯ হাজারেরও বেশি পরিবার। যেখানে বসবাস করছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

'মৃত্যুর ঝুঁকি' নিয়ে উঁচু—নিচু পাহাড় ঘিরেই ৩০ হাজার মানুষের দিনরাত

এছাড়া ইসলামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম গাবতল এলাকায় তার নিজ জায়গায় পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘর তৈরি করেছেন।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ৯ হাজার একর সরকারি ও ১৫ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি (পাহাড়) রয়েছে। এসব পাহাড়ে প্রায় ৯ হাজার বসতঘর রয়েছে। এরমধ্যে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে আছে অন্তত ২০ হাজার মানুষ। এছাড়াও গত ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২ শতাধিক বসতঘর মাটি চাপা পড়েছে। গত ২০১৭ সালের ১৩ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের দুই পরিবারের ২১ জনের মৃত্যু হয় পাহাড়ধসে। একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় পাহাড় কাটার সময় মাটি চাপা পড়ে এক শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়।

রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার অভ্যন্তরে ১০টির বেশি পাহাড়ে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। এসব পাহাড়ে ৩ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছে ৫ হাজারের বেশি মানুষ।

রাঙ্গুনিয়ার পৌরমেয়র শাহাজাহান শিকদার বলেন, ‘পৌরসভার ইছাখালি, গুচ্ছগ্রাম, জাকিরাবাদ, কাদের নগর ও নোয়াগাঁও পৌর এলাকায় পাহাড়ে বসবাস করছে প্রায় ১ হাজার পরিবার। এদের অনেকে পাহাড়ের চূড়া কেটে বসতঘর তৈরি করেছে। পাহাড়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মাসুম করিম বলেন, ‘পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীরা কোনো আইন মানে না। তাদের উচ্ছেদ করার পরও আবার বসতি গড়ে।’

এ ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার ইউসুফ আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ‘পাহাড়ের চূড়া ও পাদদেশ ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের বসতঘর ছাড়তে অনুরোধ জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরপরও বসবাসকারীরা স্বেচ্ছায় সরে না এলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ডিসি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm