টাকা থাকলেই টার্গেট—ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে মারধর, এরপর লুট

কখনো রাস্তায়, কখনো বাসে, কখনো ব্যাংক থেকে বের হওয়া গ্রাহকদেরকে টার্গেট করে পিছু নেয়। টার্গেট করা ব্যক্তিকে সুযোগ বুঝে কৌশলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মারামারির পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। সবশেষে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কেড়ে নেয় সর্বস্ব। এই চক্রে ১০ থেকে ১২ জন রয়েছে।

অবশেষে কোতোয়ালী থানার অভিযানে ধরা পড়েছে চক্রের ৭ সদস্য। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১টি দেশীয় এলজি, ২ রাউন্ড কার্তুজ, ১টি ছুরি ও নগদ ২৫ হাজার টাকা।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে নগরের হালিশহরের নয়াবাজার ও পলোগ্রাউন্ড এলাকায় গোপন সংবাদের অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধী শিশুকে পিটিয়ে রক্তাক্ত, দোকান লুট—অভিযোগ গেল থানায়

গ্রেপ্তাররা হলেন- রকি (২৪), রফিকুল ইসলাম বাপ্পি (২৭), মো. সাইফুল ইসলাম (৩০), মো. তৌহিদুল ইসলাম তপু (২৪), মো. জসিম উদ্দিন (২২), মো. সাহাবুদ্দিন (৩২) ও মো. তাজুল ইসলাম (৩৪)।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার (২৪ জানুয়ারি) বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী তনজিরুল ইসলাম নগরের কোতোয়ালি থানার তিন পুলের মাথা এলাকার আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর হেঁটে অফিস যাওয়ার পথে জুবিলী রোডের রয়েল টাওয়ারের বিপরীতে পৌঁছলে অজ্ঞাত ৫-৬ জন তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। এরপর উঠে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও ৫-৬ তার সামনে চলে আসে। একপর্যায়ে ভিকটিমকে কিল ও ঘুষি মেরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ১ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভিকটিম কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ আরও জানায়, মামলার পর তদন্ত নেমে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। পরে গোপন সংবাদে অভিযান পরিচালনা করে হালিশহর নয়াবাজার বিশ্ব রোড থেকে ৫ জন এবং তাদের দেওয়া তথ্যে পলোগ্রাউন্ড এলাকা থেকে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘জাহাজে লুট’—ধাওয়া করে ৪৩ জলদস্যুকে ধরল কোস্টগার্ড

কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নেজাম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, গ্রেপ্তার সবাই একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। কখনো রাস্তায়, কখনো বাসে, কখনো ব্যাংক থেকে বের হওয়া গ্রাহকদের টার্গেট করে পিছু নেয়। টার্গেট করা ব্যক্তিকে সুযোগ বুঝে কৌশলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মারামারির পরিস্থিতি সৃষ্টি করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব কেড়ে নেয়।

ওসি আরও বলেন, এই চক্রে ১০ থেকে ১২ জন সদস্য রয়েছে। গ্রেপ্তাররা দীর্ঘদিন ধরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতি করছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।

আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm