হাসপাতালে অবহেলায় শিশুর মৃত্যু, শিশুর মা—বাবাকে পিটিয়ে মামলা খেল ৫ ডাক্তার

অবহেলায় মারা যাওয়া শিশুর স্বজনদের পিটিয়ে মামলা খেয়েছে ৫ ইন্টার্ন ডাক্তার। নগরের খুলশী থানায় মামলাটি দায়ের হয়েছে। মামলায় অবহেলাজনিত মৃত্যু ও শিশুর স্বজনদের ওপর হামলার বিষয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি আলোকিত চট্টগ্রামকে নিশ্চিত করেছেন খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা। তিনি বলেন, ‘মারা যাওয়া শিশুর স্বজনদের ওপর হামলা ও চিকিৎসকদের অবহেলায় ওই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ ফ্রেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু অনুরাজ চক্রবর্তী অবহেলায় মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠে। এর প্রতিবাদ করলে চিকিৎসকদের পক্ষ নিয়ে ওই শিশুর মা ও খালার ওপর হামলা চালান ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। একটি ভিডিও ফুটেজে হামলার বিষয়টি উঠে আসে।

এদিকে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ শিশুর স্বজনদের সরিয়ে নেওয়ার সময় পুলিশের সামনেও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীর স্বজনদের ওপর চড়াও হয়।

আরও পড়ুন: গৃহবধূ—নবজাতকের মৃত্যু, মামলার জালে স্বামী শ্বশুর শাশুড়ি

নিহত শিশুর খালা ববির অভিযোগ, শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় শিশুকে বারবার এনআইসিউতে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তখন চিকিৎসকরা মোবাইলে গেমস খেলায় মগ্ন ছিল। ফলে মৃত্যু হয় শিশু অনুরাজের। এ ঘটনায় বিচার চাইতে গেলে স্বজনদের মারধর করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

শিশুর বাবা রাজীব চক্রবর্তী জানান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে এনআইসিউতে সিট খালি না থাকায় স্বজনরা ইউএসটিসিতে এনে এনআইসিইউতে ভর্তি করেন। ২৪ ফ্রেব্রুয়ারি রাউন্ডে আসা প্রফেসর এম সাদেক শিশুকে জেনারেল ওয়ার্ডে রাখার জন্য লিখে দেন। রাতে হঠাৎ শিশুর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। দায়িত্বরত চিকিৎসক ও অনান্যদের শিশুর অবস্থা জানানো হলেও তারা তখন মোবাইলে গেমস খেলায় ব্যস্ত ছিলেন। পরে শিশুকে এনআইসিইউতে আনা হলেও তার মৃত্যু হয়

রাজীব চক্রবর্তী আরও বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখে শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে চিকিৎসকরা চাপ সৃষ্টি করেন। এতে সন্দেহ হয়। পরে জানানো হয় শিশুটি মারা গেছে।

তবে এ বিষয়ে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা এমন গাফিলতি করিনি। রোগীর স্বজনরা জানানোর সাথে সাথে শিশুকে চিকিৎসা দিলেও মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন: শিশুর মৃত্যু—মা ও শিশু হাসপাতালে, অবহেলার আঙুলে ডাক্তার—নার্স

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পেশায় ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি শিশুটির বাবা রাজীব চক্রবর্তী৷ ৫ বছর পর তাদের প্রথম সন্তান হিসেবে আসে এই শিশু। শিশুটিকে হাসপাতালে এনে এনআইসিউতে রাখা হয়। প্রতিদিন সিট ভাড়া ৫ হাজার টাকার সঙ্গে তাদের গুণতে হয়েছে আরও খরচ। স্বজনদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু টাকা জমা দিতে বলে। কিন্তু টাকা যোগাড় করতে একটু দেরি হওয়ায় এবং রোগীর অবস্থা কিছুটা উন্নতি হওয়ায় এনআইসিউ থেকে জেনারেল ওয়ার্ডে ওই শিশুকে পাঠানো হয়।

এদিকে শিশুর স্বজনদের ওপর হামলার ঘটনায় উঠে আসে সাব্বির, রিজভীও নাহিদের নাম। তাঁরা সবাই এই হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক। তাঁদের সঙ্গে আরও ১০-১২ জন ছিলেন বলেও জানা গেছে। ভিডিও ফুটেজে পুলিশের সামনেই সাব্বিরকে ওই শিশুর স্বজনদের ওপর চড়াও হতে দেখা যায়।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm