মামলাজটে চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে গেছে ২ বিদেশি জাহাজ

আমদানি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা দুটি বিদেশি জাহাজকে আটক করা হয়েছে। বাংলাদেশি অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক মামলার কারণে জাহাজ দুটিকে আটক করা হয়।

জানা যায়, রাজধানীর উত্তরা মডেল টাউনের ট্রপিক্যাল শর্মি সেন্টারের প্রতিষ্ঠান রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সঙ্গে লজিস্টিক কোম্পানি বিএস কার্গোর ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়। এ কারণে রাজ্জাক জুটের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তার জন্য মামলা করা হয়। আর সেই মামলায় এডমিরালিটি কোর্ট বিএস কার্গোর সংশ্লিষ্টতা থাকা অন্য দুটি বিদেশি জাহাজ আটকের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের কারণে চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যেতে পারছে না দুটি জাহাজ।

জাহাজ দুটি হলো— লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘সান আলফেনসো’ এবং অন্যটি মার্শাল আইল্যান্ড পতাকাবাহী জাহাজ ‘সেলসিয়াস নেলসন’। পাট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রাজ্জাক জুটের পক্ষ থেকে ১৫ কোটি টাকার পাওনা দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ‘সান আলফেনসো’ জাহাজটিতে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪০ টিইইউস কনটেইনার রপ্তানির জন্য তোলা হয়েছিল। মামলার কারণে ওই পরিমাণ রপ্তানি কনটেইনার নিয়ে এখন জাহাজটি বহির্নোঙরে তিনদিন ধরে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে ‘সেলসিয়াস নেলসন’ জাহাজটি অনুমতি নিয়ে বন্দরে আমদানি পণ্য নামাতে পারলেও কোনো রপ্তানি পণ্য জাহাজে তুলছে না। কারণ জাহাজটিও মামলা জটিলতা থেকে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত বসে থাকবে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে চোরাই পণ্য মামলার আসামির রমরমা ব্যবসা, হাতিয়ার—নগর পুলিশের সঙ্গে চুুক্তি

জাহাজের বিস্তারিত তথ্যে জানা যায়, মার্শাল আইল্যান্ড পাতাকাবাহী জাহাজ ‘সেলসিয়াস নেলসন’ গত ১৬ মার্চ শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর থেকে ৭৭১ বক্স ১ হাজার ৫০ টিইইউস আমদানি কনটেইনার নিয়ে ২২ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। সেদিনই মামলা জটিলতায় পড়ে জাহাজটি।

পরবতীর্তে বন্দরের অনুমতি নিয়ে ২৩ মার্চ বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি—৫ জেটিতে ভিড়ে। জাহাজটি আজ (শুক্রবার) সব আমাদনি কনটেইনার নামিয়ে বহির্নোঙরে অবস্থান করবে। জাহাজটিতে ১ হাজার ৩শ রপ্তানি কনটেইনার উঠার কথা থাকলেও আপাতত সেই জাহাজে আর রপ্তানি কনটেইনার উঠানো হচ্ছে না।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ফিডারটেক কোম্পানির এই জাহজের বাংলাদেশি এজেন্ট ক্রাউন নেভিগেশন। প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাহেদ সারোয়ার বলেন, জাহাজটিতে বিএস কার্গোর সঙ্গে এক জুট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিয়ে জটিলতা ছিল। যা আমরা আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর জানতে পারি। আদালত জাহাজটি আটকের নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: ‘চুরির হাট’ ইপিজেড টু বিমানবন্দর সড়ক, ভাগ বসান পুলিশের সোর্স

‘বন্দর থেকে অনুমতি নিয়ে জাহাজে থাকা আমদানি কনটেইনার জেটিতে নামানোর পর সেটি নিরাপদ জায়গায় অবস্থান করবে এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করবে। ইতোমধ্যে জাহাজ সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে পিএন্ডআই ক্লাবকে জানানো হয়েছে। তাদের সব তথ্যও দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

অন্যদিকে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘সান আলফেনসো’ কলম্বো পোর্ট থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে এসে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস করে। ২২ মার্চের মধ্যে ওই জাহাজে ১ হাজার ৪০ টিইইউস রপ্তানি কনটেইনারও তোলা হয়। এসময় আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর জাহাজটি আটক করা হয়। বর্তমানে রপ্তানি কনটেইনার বোঝাই করেই জাহাজটি বহির্নোঙরে অপেক্ষা করছে।

ট্রান্স ওয়ার্ল্ড ফিডার্সের জাহাজটির দেশি এজেন্ট কর্ণফুলী গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, জুট রপ্তানিকারকের সঙ্গে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সমস্যায় দুটি জাহাজ আটক করা হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ রপ্তানি পণ্য আটকে গেছে।

এসআই/আলোকিত চট্টগ্রাম

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm