মাংস নিয়ে ঝগড়ায় বিয়ে পণ্ড—পালিয়ে ঘর বাঁধলেন সেই বর-কনে

চুয়াডাঙ্গায় মাংস নিয়ে ঝগড়ার কারণে পণ্ড হয়ে গিয়েছিল একটি বিয়ে। পণ্ড হওয়া সেই বিয়ের বর-কনে এবার বিয়ে করলেন পালিয়ে!

বর সবুজ আলী একটি গণমাধ্যমকে বলেন, সেখানে যা ঘটেছে, তাতে আমাদের দুজনের তো কোনো অন্যায় নেই। বিয়েবাড়িতে এক-দুই কথা হয়, কিন্তু সেটা যে এতদূর চলে যাবে, তা ভাবিনি।

জানা যায়, সুমি খাতুনের সঙ্গে সৌদি আরব প্রবাসী সবুজ আলীর বিয়ে হয় দুই বছর আগে। সেই সময় সবুজ সৌদি আরবে থাকলেও টেলিফোনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বউ তুলে নিয়ে আসার কথা ছিল।

রোববার চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার দশমী গ্রামে কনে সুমি খাতুনকে তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে বরপক্ষের মাংস বেশি খাওয়া নিয়ে কনেপক্ষের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা রূপ নেয় সংঘষে। এরপর সালিশ বৈঠকে বর-কনের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়।

আরও পড়ুন: আগের বিয়েই বৈধ, ক্রিকেটার নাসির—তামিমার বিয়ে অবৈধ

কনের বাবা নজরুল ইসলাম তখন জানান, বরপক্ষের লোকজন খাবারে অনেক মাংস নষ্ট করেছে। এরপরও ভাত না খেয়ে আরও মাংস চাইলে এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়ে যায়। এছাড়া তারা গায়ে হলুদের উপহারও ফেরত নিয়ে এসেছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে বর সবুজ আলীর দাবি, মাংস নিয়ে না, হাত ধোয়া নিয়ে কথাবার্তার জের ধরে ঘটনাটা ঘটেছে। তারপর কী থেকে কী হয়ে গেল, বুঝলাম না।

Thai Food

তাঁর দাবি, যাদের কারণে ঝামেলা হয়েছে, তারা ঘনিষ্ঠ কোনো স্বজন নন।

সবুজ আলী বলেন, ঝগড়ার সময় আমার কথা কেউ শোনেনি। আমি তখনি বলছিলাম, আমার বউকে আমি নিয়ে যাব। আমি বাড়ি এসে রাগে বাসর ঘরের সব ফুল ছিঁড়ে ফেলছি। সারারাত ঘুমাতে পারিনি, কান্নাকাটি করেছি। পরদিন সকালে মেঝ ভাবীর ফোনে আমার ওয়াইফ ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে। সে বলে আমি থাকব না, আমি চলে আসব।

আরও পড়ুন: ‘বিয়ে পণ্ড’—ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে দেখলেন শত মানুষের রান্না, কনের কাঁধে উঠল অর্থদণ্ড

এদিকে সন্ধ্যায় এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন সুমি। এরপর মোটরসাইকেলে করে সবুজের সঙ্গে সোজা চলে যান কাজী অফিসে। কাজী অফিসে বিয়ে করে স্ত্রী সুমীকে বাড়িতে নিয়ে আসেন সবুজ।

পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও পালিয়ে আসার পর থেকে তার বাবার সঙ্গে আর কোনো কথা হয়নি বলে জানান সুমি।

যোগাযোগ করা হলে সুমির বাবা নজরুল ইসলাম একটি গণমাধ্যমকে বলেন, সে চলে গেছে তার ভাগ্য নিয়ে, এখন আমি আর কি বলবো। সে বড়দের কথা শুনল না। একদিক থেকে অবশ্য ভালোই হয়েছে। যার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল, তার সঙ্গেই আবার বিয়ে হয়েছে।

আলোকিত চট্টগ্রাম

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm