ভিসি পদে যোগ না দিয়েই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিন পদে লড়ছেন অধ্যাপক ফারুক

ডিন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ পেয়েও যোগদান করছেন না চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) আইন অনুষদের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক। এক সপ্তাহ আগে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও চ্যান্সেলরের আদেশে তাঁকে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে তিনি যোগদান না করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডিন নির্বাচনে।

জানা যায়, আগামীকাল ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চবি আইন অনুষদের ডিন নির্বাচন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন ও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক। এরমধ্যে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল ফারুক রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের আদেশে রাবিপ্রবিতে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পান। নিয়োগ পাওয়ার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তিনি ভাইস চ্যান্সেলর পদে যোগ দেননি। এদিকে আবার ডিন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ডিন নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা।

অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ পাওয়ার পরও ডিন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো বৈধতা নেই উল্লেখ করে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ মার্চ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত এ অভিযোগ দেন অধ্যাপক জাকির হোসেন।

অভিযোগ তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ৩০ মার্চ আইন অনুষদের ডিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে তিনি (অধ্যাপক জাকির হোসেন) ও অধ্যাপক ড.আব্দুল্লাহ আল ফারুক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ২৩ মার্চ অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুককে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের আদেশক্রমে রাবিপ্রবিতে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়েছে। অধ্যাপক ড.আব্দুল্লাহ আল ফারুক বিভিন্ন পত্রপত্রিকার সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি এই নিয়োগে সত্যি অনেক আনন্দিত। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে নিতে যা যা দরকার তিনি সবই করবেন। অন্যান্য পত্রপত্রিকায় বলছেন, তিনি কখন যোগদান করবেন এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। তার মানে তিনি যে রাবিপ্রবিতে চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদান করবেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ হতে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

আরও পড়ুন: ‘শ্বাসকষ্ট—বুকে ব্যথা’ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ‘চবি’ কর্মচারীর মৃত্যু

অভিযোগে আরও বলা হয়, কোনো পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে তিনি যোগদান করবেন না এমন কোনো বক্তব্য দেননি। একইসঙ্গে তিনি ডিন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেও বহাল রয়েছেন। এক্ষেত্রে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদানের ইচ্ছা ও ডিন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পেছনে পরিকল্পিত অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে প্রতীয়মান হয়। পরবর্তীতে এই নিয়ে আইনগত জটিলতার সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক জাকির হোসেন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমি ও অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক আইন অনুষদের ডিন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলাম। এরমধ্যে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের আদেশে তাকে রাবিপ্রবিতে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেখানে যোগদান না করে ডিন নির্বাচন করছেন। একজন ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পাওয়ার পর আরেকটা পদের জন্য নির্বাচন করা কোনোভাবে বৈধ হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, তিনি যদি ভাইস চ্যান্সেলর পদে যোগদান না করবেন তাহলে কেন জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে ছিলেন। আর যদি যোগদান নাও করেন তাহলে সেই পদে থাকবে না বলে রাষ্ট্রপতি বরাবর অস্বীকৃতি পত্র পাঠাতে হবে। কিন্তু তিনি সেটা না করে অসৎ উদ্দেশ্যে ডিন নির্বাচন করছেন।

এ বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ড.আব্দুল্লাহ আল ফারুকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে পরে ফোন দিতে বলেন। এর দুই ঘন্টা পর আবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবি উপচার্য (ভিসি) শিরিন আখতার আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল ফারুক রাবিপ্রবিতে যোগদান করবেন না। পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি যোগদান করছেন না। যোগদান না করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও ডিন নির্বাচনের নির্বাচন কমিশন বরাবর মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আজকে লিখিতভাবে জানাবেন। তিনি ডিন নির্বাচনই করবেন।

এএইচ/আলোকিত চট্টগ্রাম

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm