বোয়ালখালীতে নির্বাচনি সহিংসতায় ম্যাজিস্ট্রেট—সাংবাদিকসহ আহত অর্ধশতাধিক

বোয়ালখালী উপজেলার ৭ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দিনভর ছিল সহিংসতা আর কেন্দ্র দখলের প্রতিযোগিতা। এতে সংবাদকর্মীদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সহিংসতার ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট, সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।

বুধবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে দফা দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আহলা করলডেঙ্গা ইউনিয়নে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হামিদুল হক মান্নান (আনারস) ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনসুর আহাম্মদ বাবুলের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আহলা আছাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা। এ সময় তারা জোরপূর্বক ভোট নিতে গেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ কেন্দ্রে সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হলে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে বাংলাভিশনের সংবাদকর্মী সাইফুল আহত হন।

এরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামনুন আহমেদ অনীক। হামলাকারীদের তোপের মুখে তিনিও আহত হন। তিনি বলেন, মাথায় হালকা চোট পেয়েছি। হামলাকারীদের মধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

এর আগে সকালে আহলা করলডেঙ্গা লুধি শিকদারপাড়ায় আনারস প্রতীকের কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নৌকার কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহরম আলী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ হারুন রিপন গুরুতর আহত হন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ইউনিয়নের আছাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে রাম দা, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল করিম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ঝামেলায় রয়েছি। এ ধরনের কোনো খবর নেই।

আরও পড়ুন : বোয়ালখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দরপত্র কেড়ে নিলেন যুবলীগ নেতা

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা রুনা চাকমা বলেন, নির্বাচনি সহিংসতায় বুধবার সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ১৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে দুজনকে চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন আরো অনেকে।

শাকপুরা ইউপিতে সকাল থেকে সুষ্ঠু ভোট চললেও ১১টার পর থেকে নৌকার কর্মী-সমর্থকরা কেন্দ্র দখল করতে যায়। এ সময় প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে হামলার শিকার হন আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন। কেন্দ্র দখল করে তার এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেরেন তিনি। এরপর দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

এদিকে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন মো. গিয়াস উদ্দিন। যিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য ছিলেন। নৌকা প্রার্থীর বিরোধিতা করায় তাঁকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

অপরদিকে চরণদ্বীপ ইউপিতে চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মু. শোয়াইব রেযা জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্র দখল করে তার এজেন্টদের বের করে দিয়ে একতরফাভাবে নৌকায় ভোট নিয়েছে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শামসুল আলমের লোকজন।

আমুচিয়া ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র থেকে কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত প্রার্থী অনুপম বড়ুয়ার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী কাজল দে’র কর্মী-সমর্থকরা জাল ভোট দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী অনুপম বড়ুয়া।

তবে শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, সারোয়াতলী ও পোপাদিয়া ইউনিয়নে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটারদের ভোট দিতে দেখা গেছে।

মাসুদ/ডিসি
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm