‘বেপরোয়া’ চসিক কাউন্সিলর বেলালের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ খোদ আওয়ামী লীগের

লালখানবাজার ১৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মো. বেলালের ন্যায্য মূল্যে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমের কুশপুত্তলিকা দাহের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

শনিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক হলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে লালখানবাজার (ক, খ, গ) ইউনিট আওয়ামী লীগ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম ও ক ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউল আজম ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, খ ইউনিট সভাপতি এসএম ইব্রাহিম ও সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসেন মাসুম, গ ইউনিট সভাপতি নুরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক সমির কান্তি দেসহ নেতাকর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে ইউনিট আওয়ামী লীগের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সারাদেশে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়াচ্ছে অসাধু সিন্ডিকেট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ন্যায্য মূলে টিসিবির মাধ্যমে ভূর্তুকি দিয়ে ১ কোটি পরিবারকে কার্ড দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় লালখানবাজার ওয়ার্ডের অধিকাংশ দরিদ্র পরিবার এ কার্ড পায়নি। যার ফলে সরকার ও আওয়ামী লীগের ইমেজ ও ভাবমূর্তি চরমভাবে বিনষ্ট হচ্ছে। কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মো. বেলাল তার সন্ত্রাসী পেটোয়া বাহিনীর সদস্য ও তার নিজের একান্ত অনুগত পরিচিতজনদের কাছে কার্ড বিতরণের অভিযোগ রয়েছে।

তারা আরও বলেন, গত ২৭ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে লালখানবাজার ইস্পাহানি মোড়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেখানে অনিয়ম ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম প্রতিবাদ করলে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে খারাপ ভাষায় বক্তব্য দেন কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মো. বেলাল। এর পরদিন কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা দিদারুল আলম মাসুমের কুশপুত্তলিকা দাহ করে। এলাকায় জনমনে ভীতি সঞ্চার করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তার এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি তলানীতে ঠেকেছে। তার এই লাগাম টেনে ধরতে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সম্ভব হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করবো।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, বিশ বছর আগে কাউন্সিলর বেলাল তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে নিরীহ এক ব্যক্তির জমি ও বাড়ি দখল করে সেই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। কাউন্সিলরের দখল করা জমি ও বাড়িটি আদালত ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় জমির মালিককে ফেরত দিতে বললেও অবৈধ দখলদার সন্ত্রাসী কাউন্সিলর তা ফেরত দিচ্ছেন না। শুধু জমি দখল নয়, লালখানবাজার মতিঝর্না এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে মাদক ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতা করে ওয়ার্ডটিকে মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছেন।

এ সময় লালখানবাজার গ ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম বলেন, লালখানবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মো. বেলাল আগে কখনো আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কোনো পদে ছিলেন না। আমাদের একটি কথা হচ্ছে- উনি একজন কাউন্সিলর। কাউন্সিলর হয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হয়ে দলের ওপর খবরদারি করার অধিকার তাকে দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, গত ২৭ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেখানে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে আলোচনা সমাবেশে চলাকালে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, উনি সম্প্রতি সেচ্ছাসেবক লীগের একটি পদ পেয়েছে। এটি একটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন। উনি সেচ্ছাসেবক লীগের পদ পেয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগকে পরিচালিত করতে পারেন না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যতগুলো অঙ্গ সংগঠন আছে। সবগুলোকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পরিচালনা করে। আমাদের একটাই প্রশ্ন? উনি কেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগকে পরিচালিত করবেন এবং কেন খবরদারী করবেন।

এএইচ/এসআই

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm