বিয়ে করার বছর না যেতেই নানা তালবাহানায় তালাক দেন স্ত্রীকে। পরে আবার বিয়ে করার নামে করছেন প্রতারণা। এমন অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম কারাগারের কারারক্ষী সাইফুল ইসলামের (৩৮) বিরুদ্ধে।
এদিকে এসব অভিযোগে এবার আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। আদালত মামলা গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ মে) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেবের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
অভিযুক্ত মো. সাইফুল ইসলাম রাঙামাটি জেলার লংঘদু মাইনীমুখ রসুলপুরের মো. আহসান উল্লাহর ছেলে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত আছেন। অভিযোগ করা নারীও একই জেলার বাসিন্দা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের বেঞ্চ সহকারী নূরে খোদা আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে কারারক্ষী সাইফুলের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত। ৩০ দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন আদালত।
আরও পড়ুন : প্রতারণার নয়া ফাঁদ—ক্লিক করলেই টাকা, পরে সর্বহারা
অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে পরিচয়ের পর ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী সড়কে ওই নারীর ভাড়া বাসায় গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সাইফুল। ব্যর্থ হয়ে বিয়ে করার নামে নিয়ে যান নগরের ফয়’স লেক এলাকার একটি হোটেলে। বন্ধু কাজী নিয়ে আসবেন বলে অপেক্ষা করার সময় ধর্ষণের শিকার হন ওই নারী। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি হোটেল থেকে বেরিয়ে ফের বিয়ে করার নামে কোর্ট বিল্ডিং নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান সাইফুল।
এ ঘটনায় দুপরিবারের মধ্যে সমঝোতার জন্য একই বছরের ১ এপ্রিল অঙ্গীকারনামা হয়। পরে ৭ এপ্রিল হলফনামা করেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সংসার করছিলেন তাঁরা। কাবিননামা করার জন্য সাইফুলকে চাপ দিলে তিনি কালক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে ২০২২ সালে সাইফুলের বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফি ও যৌতুক নিরোধ আইনে মামলার পর আপোসের শর্তে ২০২৩ সালের ১১ জুলাই পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে তাঁদের বিয়ে হয়। তবে পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য তারা একসঙ্গে থাকতেন না।
তবে সাইফুল বান্দরবান জেলা কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ওই নারীর বাসায় এসে থাকতেন। একইভাবে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি নগরের আকমল আলী রোডে ওই নারীর বাসায় গিয়ে থাকেন। পরদিন আসার সময় দুলাখ টাকা যৌতুকের জন্য তালাক দিয়ে চলে আসেন। তালাক নোটিশও পাঠান। ১৫ এপ্রিল ফের বিয়ে করার কথা বলে ফেরেন সাইফুল। তবে বিয়ে না করে যোগাযোগ রাখেন। পরে ২১ মে চট্টগ্রাম জেলা কারাগারে গেলে ওই নারীকে অস্বীকার করেন সাইফুল। এরপর আদালতের শরণাপন্ন হন ভুক্তভোগী ওই নারী।
ভুক্তভোগী নারীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।
আরএস/আরবি


