বিএনপিতে বাবা—যুবলীগে ছেলে, নেতার আড়ালে ‘সন্ত্রাসী’ সুজন

চন্দনাইশে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে প্রকাশ্যে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আলোচনা উঠে আসে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য গিয়াস উদ্দিস সুজন। প্রকাশ্যে গুলি ছোড়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ে। এ অবস্থায় টনক নড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

এ ঘটনায় শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ধানমণ্ডি থেকে সুজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭। আলোকিত চট্টগ্রামের অনুসন্ধানে জানা গেছে, গিয়াসউদ্দিন সুজন সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য। তিনি চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকার আবদুল মোনাফের ছেলে। তবে তিনি যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হলেও তাঁর বাবা বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত।

২০১৭ সালে দক্ষিণ জেলার আওতাধীন চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির ৬২ সদস্যের কমিটিতে তিনি আছেন সহসভাপতি হিসেবে। আবদুল মোনাফ চন্দনাইশ এলাকায় বিএনপি নেতা ও সরকারবিরোধী হিসেবেও পরিচিত।

আরও পড়ুন: যুবলীগ নেতা সেজে—সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জিকুর, গুলি ছুড়েন ‘শোকের অনুষ্ঠানেও’

জানা গেছে, গিয়াস উদ্দিন সুজন রাজনীতির আড়ালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতেন। কথায় কথায় গুলি ছোড়া এবং অস্ত্র দেখিয়ে আধিপত্য বিস্তার তাঁর নেশা। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে অপহরণসহ বিভিন্ন মামলা। কথার হেরফের হলেই ফিল্মি স্টাইলে অপহরণ করে টর্চার সেলে নিয়ে চালান অমানুষিক নির্যাতন। আদায় করেন চাঁদা।

গিয়াসউদ্দিন সুজনের অপহরণের শিকার সাতকানিয়া উপজেলার চর খাগরিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নগরের চেরাগী পাহাড় মোড়ের ফুল ব্যবসায়ী আবদুল মাবুদ। জানা গেছে, আবদুল মাবুদের চেরাগী পাহাড় মোড়ে স্টার ফুল বিতান নামে একটি ফুলের দোকান রয়েছে। তিনি প্রাউভেট কারও ভাড়া দেন।

মাবুদের কাছ থেকে ২০১৭ সালে মাসিক ৮০ হাজার টাকায় কার ভাড়া নেন গিয়াস উদ্দিস সুজন। তবে তিনি এক মাসের কথা বললেও আরো বাড়তি ১৩ দিন গাড়ি ব্যবহার করেন। সে হিসেবে কার ভাড়া আসে ১ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ টাকা। কিন্তু ভাড়া পরিশোধ না করে আবদুল মাবুদের সাথে নানা টালবাহানা করতে থাকেন সুজন।

এক বছর পর ২০১৮ সালের মাঝামাঝি ৬০ হাজার টাকার একটি চেক দিলেও ওই অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা ছিল না। এভাবে কার ভাড়ার টাকার জন্য গিয়াস উদ্দিন সুজনের পেছনে ঘুরতে থাকেন আবদুল মাবুদ। ২০২১ সালের ৯ জুন তাঁকে চেরাগী পাহাড় মোড়ে দেখে গাড়ি ভাড়ার বাকি টাকা চাইতেই রেগে যান সুজন।

পাওনাদার আবদুল মাবুদকে গালাগাল ও মারধর করার হুমকি দিয়ে কোন টাকা দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। ১৪ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে টাকা চাওয়ার অপরাধে চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে আবদুল মাবুদকে প্রকাশ্যে অপহরণ করে কাতালঞ্জ টর্চার সেলে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।

এভাবে মারধরের করে তাঁকে দুদিন আটক রাখা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি খালি চেকে সাক্ষরও নেন গিয়াস উদ্দিন সুজন।

এদিকে আবদুল মাবুদের পরিবার জরুরি সেবা ৯৯৯ কল করে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান। পরে পুলিশের ভয়ে অপহরণকারীরা তাঁকে গোলপাহাড় মোড়ে ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আবদুল মাবুদ বাদী হয়ে গিয়াসউদ্দিন সুজনকে প্রধান আসামি করে মোট ৩ জন এবং অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে বিবাদী করে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: যুবলীগ ‘নেতার কাণ্ড’—চট্টগ্রামে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করেই গ্রেপ্তার ঢাকায়

অন্যদিকে ৩০ আগস্ট চন্দনাইশের হাশিমপুরে একটি কমিউনিটি সেন্টারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ব্যানারে শোক দিবসের আলোচনা সভার আয়োজনের দায়িত্ব ছিল গিয়াস উদ্দিনের ওপর। ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের বিরোধের জেরে গোলাগুলির পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে গিয়াস প্রকাশ্যে গুলি ছুড়েন। ৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় চন্দনাইশ থানায় পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সুজনের সন্ধানে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে ঢাকার ধানমণ্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭।

এসি

1 মন্তব্য
  1. ইসমাইল ইমন বলেছেন

    ধন্যবাদ

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm