কোনোভাবেই থামছে না বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা। সাম্প্রতিক সময়ে চলে আসা এ উত্তেজনা আরও তুঙ্গে উঠে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর)। দিনের শুরুতে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। আর বিকেলে দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে।
একই দিনে দুই দেশের দূতকে পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে এবারই প্রথম। সবমিলিয়ে গত ১০ দিনে দুই দেশ দুবার করে পরস্পরের কূটনীতিককে তলব করে নানা ইস্যুতে প্রতিবাদ আর উদ্বেগ জানায়।
মঙ্গলবার ভারতের দিল্লি, কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ মিশন অভিমুখে বিশ্ব হিন্দু পরিষদসহ (ভিএইচপি) একাধিক সংগঠন মিছিল–সমাবেশ করে। তিনটি স্থানে পুলিশ তাদের বাংলাদেশ মিশনে যাওয়ার পথ আটকালে সংঘর্ষে জড়ান বিক্ষোভকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে মুম্বাইতে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন আজ (২৪ ডিসেম্বর) থেকে ভিসা সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে দিল্লি ও আগরতলায় ভিসা সেবা করে দেয় ঢাকা।
জানা গেছে, এক বছর আগেও দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন অভিমুখে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিল হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সংগঠন। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাংলাদেশ মিশন থেকে অনেক দূরেই বিক্ষোভকারীদের আটকে দিয়েছিল। আর এবার মিশন থেকে ৬০০–৭০০ মিটার দূরে আটকে দেওয়া হয়। যদিও ২০ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ২০–২৫ জনের বিক্ষোভকারী দলটি কীভাবে পৌঁছে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বি শ্যাম চা পানের আমন্ত্রণের কথা বলে তলব করেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে। স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার দিকে হাইকমিশনার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে হাইকমিশনারকে বলা হয়, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ইস্যুতে অযৌক্তিক ও অপ্রাসঙ্গিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে বাংলাদেশ।
এ অভিযোগ খণ্ডন করে হাইকমিশনার বলেন, বিভিন্ন ইস্যুতে বাস্তবতার নিরিখে অবস্থান তুলে ধরছে বাংলাদেশ।
অপরদিকে গভীর উদ্বেগ জানাতে মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সকাল ১০টায় প্রণয় ভার্মাকে তলব করেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রণয় ভার্মাকে তলব করে ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও হাইকমিশনারের বাসভবনের বাইরে ঘটে যাওয়া দুঃখজনক ঘটনা; ২২ ডিসেম্বর শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ ভিসা কেন্দ্রে বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর ভাঙচুরের ঘটনায় ভারত সরকারের কাছে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে পোশাক কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যা ও বিভিন্ন স্থানে ‘হিন্দু নির্যাতনের’ অভিযোগ তুলে কলকাতা, দিল্লি ও মুম্বাইয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ মিশন অভিমুখে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ কর্মসূচির আয়োজক ছিল ভারতের বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), বজরং দল, বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন।
মঙ্গলবার কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন অভিমুখে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও লাঠিপেটার ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন বেশ কয়েকজন। পরে কয়েকজনকে আটকও করে পুলিশ। বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ওই কর্মসূচির ডাক দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগেই উপহাইকমিশন চত্বরে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সংঘাত ঠেকানো যায়নি।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করেন ভিএইচপি ও বজরং দলের সমর্থকেরা। হাইকমিশন থেকে ৬০০–৭০০ মিটার দূরে বিক্ষোভকারীদের গতিরোধ করে পুলিশ। বাধা পেয়ে বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পোড়ান। একসময় প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা এগোতে গেলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
আলোকিত চট্টগ্রাম
