বাঁশখালীর লিচুতে এবার পোকা নেই, দামও বাড়তি

পূর্ব বাঁশখালীর ৩৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে লিচু উৎসব। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লিচু। তবে দাম চড়া হলে বন্ধন অটুট রাখতে অনেকেই স্বজনের বাড়ি পাঠাচ্ছেন লিচু। আবার অনেকে কতিপয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে খুশি করতে উপহার হিসেবে দিচ্ছের লিচু।

বাঁশখালীর হাট-বাজারগুলোতে পাইকারি-খুচরা লিচু বিক্রির ধুম পড়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারি ক্রেতারা প্রতিদিন বাঁশখালীর বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে ট্রাকে লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছে। বাঁশখালীর কালীপুরের লিচু দেশের খুব নামকরা হওয়ায় এই লিচু কিনতে কালীপুরেই ক্রেতার ভিড় বেশি।

তবে লিচু চাষাবাদ শুধু কালীপুরেই সীমাবদ্ধ নয়, এখন পুরো বাঁশখালীতেই হচ্ছে। প্রাকৃতিক নিয়ম মানলে এই লিচু উৎসব আর ৭ সপ্তাহ চলবে। এরপর লিচু গাছগুলো লিচুশূন্য হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: ১৫২ টাকা লিটারের সয়াবিন তেল ১৮০ টাকা, হালিশহরে দোকান সিলগালা

বাঁশখালীর কালীপুর, বৈলছড়ি, পুকুরিয়া, সাধনপুর, জলদি, চাম্বল, পুঁইছড়ি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে লিচুর বাম্পার ফলন। লিচু চাষিরা জানান , এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। অধিকাংশ গাছই পরিপূর্ণ। তবে মৌসুমের শুরুতে একটু বৃষ্টি হওয়ায় লিচু পাকতে একটু দেরি হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় নতুন লিচু গাছের সংখ্যা বেড়েছে। লিচু পাকার সময় বৃষ্টি না হওয়ায় পোকার আক্রমণ হয়নি। পোকা থেকে রক্ষা পাওয়ায় লিচুর দাম চড়া। চাষিরাও লিচু বিক্রি করে আনন্দ পাচ্ছেন। খুচরা ও পাইকারি লিচু এখন শতপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, বাঁশখালীতে প্রায় সাড়ে ৭শ’ হেক্টর জমিতে লিচু উৎপাদিত হয়। এবার তা আরো ৫ হেক্টর বেড়েছে। উৎপাদিত লিচুর মধ্যে কালীপুরের দেশি জাতের ৯০ ভাগ লিচু রয়েছে। বাকি ১০ ভাগ লিচু চায়না-থ্রি ও চায়না-টু জাতের। এ দুই জাতসহ মঙ্গলবারিয়া নামে আরো একটি জাতের লিচু কলমীর মাধ্যমে চাষ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। চায়না থ্রি জাতের লিচুর শাস বড়, বিচি ছোট হয়। এ জাতের লিচুর ফলন একটু দেরিতে আসে।

দেশি জাতের লিচুর বিচি বড়, শাঁস ছোট হয়। তবে এ জাতের লিচু খুব বেশি মিষ্টি হয়। প্রতিটি লিচু গাছ ৪০ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সে লিচু গাছ বেশি ফলন দেয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ছালেক আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, লিচু চাষের জন্য বাঁশখালীর মাটি খুবই উপযুক্ত হওয়ায় লিচুর ফলন হয় বেশি। ফলে চাষিরা লিচু বিক্রি করে অধিক টাকা পেয়ে থাকেন।

কালীপুর এলাকার বেলাল উদ্দিন জানান , তার ৩শ গাছ নিয়ে কালীপুরে ২টি বাগান রয়েছে। সবকটি বাগানে কম-বেশি লিচু ধরেছে।

আরও পড়ুন: ওষুধের হাহাকার হাজারী গলিতে, দোকান বন্ধ রেখে ‘নাটক’ ব্যবসায়ীদের

অভিন্ন কথা লিচু চাষি পালেগ্রামের নুরুল আলম, আজি আহম্মদ এবং কালীপুরের মো. ইউছুফের। তাঁরা জানান, গত বছরের এ সময়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেছেন। এ বছর আরো বেশি মুনাফা অর্জিত হবে।

স্থানীয় নিয়মে হাজারপ্রতি লিচুর দাম এখন আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। তা পরে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় নামবে। স্থানীয় নিয়মে হিসাব করা হয় ১২শ লিচুতে ১ হাজার লিচু ।

পাইকারি লিচু ক্রেতা ঢাকার লিচু ব্যবসায়ী আবুল কালাম, নবী উদ্দিন ও চন্দনাইশের আলা উদ্দিন জানান, এবার লিচুর দাম খুব চড়া। আমাদেরকে হাজারপ্রতি আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। গত বছর এসময় ১৬শ থেকে ১৭শ টাকায় কিনেছি। তবে লিচুতে পোকা আক্রমণ না করায় বেশি দামে লিচু কিনেও আনন্দ লাগছে বলে তারা জানান।

এসআই/আলোকিত চট্টগ্রাম

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm