বসন্ত বাতাসে সূর্যমুখীর মুগ্ধতা—প্রথম আবাদেই লাভের আশা

বসন্ত বাতাসে গ্রামেও মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সূর্যমুখী ফুল। সূর্য যে দিকে হেলে পড়ছে, তার সঙ্গে বাতাসে দোল দিয়ে হেলে পড়ছে সূর্যমুখীও। এ দৃশ্য দেখার জন্য সীতাকুণ্ড উপজেলার টেরিয়াইল গ্রামে প্রতিদিনই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানান বয়সের দর্শনার্থী।

এলাকাবাসী জানান, এ অঞ্চলে প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী ফুলের আবাদ হয়েছে। তাই সূর্যমুখী ফুলের হাসি দেখতে সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা দলে দলে ছুটে আসছেন এখানে। বিশেষ করে বিকেলে এখানে মেলার মতো হয়। দোকানিরাও বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের পসরা সাজিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে বসেন এখানে। বর্তমানে সূর্যমুখী বাগান বলে পরিচিতি লাভ করেছে স্থানটি।

কৃষক আলী হোসেন জুয়েল জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তিনি বিনামূল্যে এক কেজি সূর্যমুখী বীজ ও সার সংগ্রহ করেন। এরপর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পিপাস কান্তি চৌধুরীর পরামর্শে ৩৩ শতক জমিতে প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের ২৭ তারিখে জমিতে বীজ রোপণ করি।

সূর্যমুখী ফুল দেখতে ভীড় করছেন শিক্ষার্থীরা
সূর্যমুখী ফুল দেখতে ভীড় করছেন শিক্ষার্থীরা

আলী হোসেন বলেন, মার্চের ১০ তারিখ থেকেই গাছে সূর্যমুখী ফুল ফুটতে শুরু করে। ফুল চাষে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন পারভেজ, আরিফ হোসেন, মনি, ইদ্রিছ ও ইমরান। মূলত তেলের ঘাটতি মেটাতে এ সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। আর মাত্র ১৫/২০ দিন পর সূর্যমুখী ফুলবীজ সংগ্রহ করার পর মাড়াই শেষে তেল উৎপাদন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এখানে একাধিক কৃষক সূর্যমুখী ফুল চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে শুকনো মৌসুমে এ অঞ্চলে সেচ সুবিধার অভাব। আশপাশে কোনো খাল কিংবা পুকুর না থাকায় অনেকদূর থেকে সেচ দিতে হয় জমিতে। ফুল চাষে এ পর্যন্ত ১৫/২০ হাজার টাকার মতো খরচ পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: সূর্যমুখীর রাজ্যে—মৌমাছির ছুটোছুটি আর নানা রঙের পাখির মেলা

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ ব্লকে দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পিপাস কান্তি চৌধুরী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, কৃষক আলী হোসেন জুয়েল ও নুর উদ্দিন দুজন বিনামূল্যে কৃষি অফিস থেকে সূর্যমুখী ফুলবীজ সংগ্রহ করে তাদের নিজ নিজ জমিতে আবাদ করেছেন। প্রথম আবাদেই সূর্যমুখী ফুলের ফলনও খুব ভালো হয়েছে। তাই অন্যান্য কৃষকদেরও এ ফুল চাষে ক্রমশ উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কৃষক জুয়েলের আবাদকৃত ৩৩ শতক জমিতে তেল উৎপাদন হবে আনুমানিক ৭০ কেজি। আর তার সাথে ২১০ কেজি খইল ও জ্বালানিও পাওয়া যাবে। সবমিলিয়ে বাজার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো। কৃষকদের প্রচুর আগ্রহ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, আগামীতে আরো ব্যাপকভাবে এ ব্লকে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ১.৩৩ হেক্টর জমিতে সোনাইছড়ি ও বারৈয়াঢালা— এ দুটি ইউনিয়নে ১০ জনকে প্রনোদনা কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতি ১ কেজি করে ১০ কেজি সূর্যমুখী বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। ভোজ্য তেলের ঘাটতি মেটাতে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ভেজালমুক্ত ভোজ্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সরকার কৃষকদের মাঝে এসব বিতরণ করেছে।

এসআই/আলোকিত চট্টগ্রাম

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm