বদলে গেছে চকবাজার টেরিবাজার আন্দরকিল্লা আমতল

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ঈদের ছুটিতে প্রায় পুরোটাই ফাঁকা। গেল দুবছর করোনা মহামারীর কারণে ঈদযাত্রায় ছিল বাধা। অনেকেই পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে চট্টগ্রামের বাইরে যেতে পারেননি। এবার বিধিনিষেধ না থাকায় গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই চট্টগ্রাম ছাড়তে শুরু করে মানুষ। নাড়ির টানে বাড়ি গেছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে।

নগরের ব্যস্ততম চিরচেনা মোড়গুলো এখন অচেনা রূপে। কোথাও নেই হাঁকডাক, যানজট, অসহ্য হরণ কিংবা গাড়ির কালো ধোঁয়া। যারা শহরে আছেন তারা স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটছেন রাস্তা-ফুটপাতে। ফেলছেন স্বস্তির নিঃশ্বাস।

আরও পড়ুন: এবারের ঈদে বদলে যাবে কক্সবাজার

রাস্তায় রিকশা, অটোরিকশা চোখে পড়লেও ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহণের সংখ্যা হাতেগোনা। মানুষের চলাচলও সীমিত। মোড়ে মোড়ে রিকশা ও টেম্পো, হিউম্যানহলার দাঁড়িয়ে আছে যাত্রীর অপেক্ষায়। ট্রাফিক পুলিশদেরও সেই চিরচেনা ব্যস্ততা নেই। অনেক মোড় ছিল প্রায় ফাঁকা। রাস্তায় ছিল ব্যাটারি রিকশার অবাধ চলাচল।

নগরের গুলজার মোড় এলাকার চিত্র-আলোকিত চট্টগ্রাম

এদিকে ঈদের বকশিশের নামে গণপরিবহনে আদায় করা হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। উঠানামা ভাড়া ১০ টাকা। চাঁদ রাত থেকে এ বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

অপরদিকে নগরের বিভিন্ন এলাকার দখলে থাকা ফুটপাতগুলোতে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটছে মানুষ। ফাঁকা রাস্তায় বের হওয়া মানুষ গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ের আগে।

বুধবার (৪ মে) সকালে একপশলা বৃষ্টির পর নগরের চকবাজার, আন্দরকিল্লা, বক্সিরহাট, টেরিবাজার, লালদীঘি, কোতোয়ালী ও নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে স্বস্তিরর এ চিত্র।

নগরের চকবাজার মোড়ে দেখা গেছে, যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়ানো বাস, টেম্পু। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর কিছু আসন ফাঁকা রেখে ছেড়ে গেল গন্তব্যে। তবে গাড়িতে উঠার আগে চালক-হেলপার বলছেন উঠানামা ভাড়া ১০ টাকা। এসময় মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কাউকে চোখে পড়েনি।

এরপর নগরের আন্দরকিল্লা মোড় ও টেরিবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেল, ঈদের আগেও যেখানে যানজট ছিল প্রতিদিনকার চিত্র এখনকার দৃশ্য দেখে তা বোঝার উপায় নেই। টেরিবাজারের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। খুলবে আগামী রোববার।

আরও পড়ুন: বদলে গেল তিনদিনের দৃশ্য—মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল লাখ লাখ লোক

অন্যদিকে ব্যস্ততম এলাকা আমতল ও নিউমার্কেট এলাকার রাস্তা ও ফুটপাতগুলো একবারে ফাঁকা। পথচারীরা বাধাহীনভাবে ছুটে চলেছেন গন্তব্যে। আশাপাশের দোকানপাট, মার্কেট, শপিংমল সবকিছুই বন্ধ।

ফাঁকা রাস্তায় ছেলে-মেয়ে নিয়ে হাঁটতে বের হওয়া সদরঘাটের বাসিন্দা উজ্জ্বলের সঙ্গে কথা হয় নিউমার্কেট মোড়ে। তিনি আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, এখানে দিন-রাত যানজট ও যনজট লেগে থাকে। ফলে হাঁটার তেমন সুযোগ হয় না। ভয়ে পথ চলতে হয়। কিন্তু গত কয়েকদিনের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। চিরচেনা নগরীকে অচেনা মনে হচ্ছে। অনেকদিন পর একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছি। তাই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বের হয়ে পড়লাম।

আলোকিত চট্টগ্রাম

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm