ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় আরো গতিশীলতা আসবে : কাজী মিজানুর রহমান

পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সের আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) আদালতের সম্মেলন কক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কাজী মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মু. ইব্রাহীম খলিল,  মো. আবু বকর সিদ্দিক, মো. মোস্তফা ও নুসরাত জাহান জিনিয়া।

এছাড়া সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন, পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রহুল কবির খান, সহকারী পুলিশ সুপার (ডিবি উত্তর) মো. মোস্তফা কামাল, সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) কেশব চক্রবর্তী, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিনিধি সাকিব শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পরিচালকের প্রতিনিধি জুনায়েদ আহমেদ, ফরেনসিক মেডিসিনের ডা. খালেদ হাসান, লেফটেন্যান্ট আবরার তাজওয়ার, কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের সিনিয়র জেল সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, র‌্যাবের প্রতিনিধি, শিল্প পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, নৌ পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রতিনিধি, নগরের ১৬ থানার অফিসার ইনচার্জ এবং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা  উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. মফিজুল হক ভূইয়া ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নেজাম উদ্দিন।

কনফারেন্সের শুরুতে সিএমএম কাজী মিজানুর রহমান বিগত সভার সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে বিচারাধীন মামলাসমূহের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে দিকনির্দেশনা দেন। তিনি আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সম্প্রতি সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধি মোতাবেক মেমোরেন্ডাম অফ এরেস্ট কঠোরভাবে প্রতিপালন করার নির্দেশ দেন। নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয় সেই বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন সিএমএম কাজী মিজানুর রহমান।

তিনি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট থানার অফিসার ইনচার্জদের তদন্তকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেন। একইসঙ্গে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে প্রতিবেদন দাখিল, মামলার সাক্ষী উপস্থাপন নিশ্চিত করা এবং তাদের নিরাপত্তা বিধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন।

মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. মফিজুল হক ভূইয়া আদালতের বিজ্ঞ বিচারক, আইনজীবী, সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

কনফারেন্সে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বের চেয়ে দ্রুতগতিতে মেডিকেল সনদ প্রদানের বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রতিনিধি ডা. জুনায়েদ আহমেদ যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার জানান, গত ১০ মাসে ৫৩২ জন আসামিকে প্রবেশন দেওয়া হয়েছে। মামলার আলামত নিলামের মাধ্যমে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যে সিএমএম বলেন, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় বিচার প্রশাসন, নির্বাহী প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ একে অপরের পরিপূরক। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তরিকতা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে একযোগে ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে বিচার প্রার্থী মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। বিচারপ্রার্থীর অধিকার নিশ্চিতে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে মামলা নিষ্পত্তিতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সামনের দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর পারষ্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় আরো গতিশীলতা আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘোষণা সিএমএম কাজী মিজানুর রহমান।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm