প্রধান শিক্ষকের শাসনে এক শিক্ষার্থীর ইউনিফর্ম রক্তে লাল, আরেকজন হারালেন জ্ঞান

মিরসরাইয়ে চার এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বেত দিয়ে মেরে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে শফিউল আলম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে।

বুধবার (৯ মার্চ) বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রধান শিক্ষকের বেতের আঘাতে পিঠ, হাত ও পায়ে জখম হয় চার শিক্ষার্থীর। এদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং অন্য একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় পরিবারের লোকজন।

আহত শিক্ষার্থীরা হলো- মো. আবদুল কাইয়ুম, মো. মোজাম্মেল, বিবি জুলফা ও তিশা আক্তার।

আরও পড়ুন: ছাত্রীকে উত্যক্ত—ছুরি চালিয়ে হাতুড়িপেটা করা হলো প্রতিবাদী প্রধান শিক্ষককে

শিক্ষার্থীদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে দশম শ্রেণির ছাত্রদের হোস্টেলে রাখার ব্যবস্থা করে শফিউল আলম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ছাত্রীরা থাকে বাড়িতে। যেসব শিক্ষার্থী হোস্টেলে থাকে না তাদের পড়ালেখা মনিটরিং করার জন্য শিক্ষকদের একটি গ্রুপ রাতে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন।

মঙ্গলবার (৮ মার্চ) রাতে মো. আবদুল কাইয়ুম, মো. মোজাম্মেল, বিবি জুলফা ও তিশা আক্তারের বাড়িতে যায় মনিটরিং গ্রুপ। কিন্তু সে সময় তাদের চারজনের কাউকেই পড়ার টেবিলে পাওয়া যায়নি।

পরদিন বুধবার ক্লাস চলাকালীন চার শিক্ষার্থীকে এ অভিযোগে বেত দিয়ে বেদম প্রহার করেন প্রধান শিক্ষক। এ সময় বেতের আঘাতে পিঠ, হাত ও পায়ে জখম হয় তাদের। একপর্যায়ে বিবি জুলফা নামের এক শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে পড়লে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অপর শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় পরিবারের লোকজন।

পরীক্ষার্থী মো. আব্দুল কাইয়ুমের মা আলেয়া বেগম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, মঙ্গলবার রাতে আমার ছেলে একটি মাহফিলে যায় সম্মতি নিয়ে। এসময় প্রধান শিক্ষক জানতে পারেন কাইয়ুম পড়তে না বসে রাতে ওয়াজ মাহফিলে গেছে। পরদিন ক্লাসে এই অভিযোগে কাইয়ুমকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন প্রধান শিক্ষক। তার স্কুল ড্রেস রক্তে লাল হয়ে যায়। পরে আমরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।

আরও পড়ুন: ‘পাঠদান বন্ধ’ রেখে—স্কুল চলাকালীন এমপির দুই অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক!

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, শিক্ষার্থীদের বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। মঙ্গলবার রাতে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পরিদর্শন করে মো. মোজাম্মেল, বিবি জুলফা, তিশা আক্তার ও আব্দুল কাইয়ুমকে পড়ার টেবিলে পাওয়া যায়নি। পরদিন স্কুলে তাদের প্রত্যেককে অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে একবার করে বেত্রাঘাত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, জুলফা তার বাড়িতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সারারাত জেগে ছিল। ডাক্তার জানায়, সারারাত নির্ঘুম থাকায় তার গ্যাসের সমস্যা হওয়ায় স্কুলে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। আজ (বৃহস্পতিবার) সকলেই স্কুলে ক্লাস করেছে। ওরা সবাই সুস্থ আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খান বলেন, প্রধান শিক্ষকের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রহারের ঘটনাটি শুনেছি। শিক্ষার্থীদের ভালো পড়ালেখার জন্য তদারকি করা ভালো। কিন্তু মারধর করা ঠিক হয়নি। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজিজ/আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm