প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে౼চাকরিটা এবার পেয়ে যাবে আছপিয়া সত্যি

অবশেষে জমি ও ঘর পাচ্ছেন ‘ভূমিহীন’ আছপিয়া। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অল্প সময়ের মধ্যে হিজলাতেই স্থায়ী বাসিন্দা হতে পারবেন তিনি।

সেই সঙ্গে পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে চাকরির যে স্বপ্ন ছিল তা হয়ত সহসায় পূরণ হতে চলেছে আছপিয়ার।

বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে এসেছে বলে জানান বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া স্যার ফোন দেন। আছপিয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে বলে জানান তিনি। আছপিয়া যাতে চাকরি পায় সেজন্য সরকারি জমিতে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে আছপিয়ার জন্য জমির স্থান নির্ধারণ করতে হিজলার ইউএনওকে বলা হয়েছে। আশা করছি শিগগির ঘর নির্মাণ করা হবে।’

আরও পড়ুন : ৭ ধাপে উত্তীর্ণ হয়েও পুলিশের চাকরিটা পেলেন না আসপিয়া

হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বকুল চন্দ্র কবিরাজ বলেন, জেলা প্রশাসক স্যার আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন আছপিয়ার বিষয়টি দেখতে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরকারি খাস জায়গা দেখে আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় তাকে ঘরও তৈরি করে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি খাস জমি দেখেছি। আছপিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সেগুলো দেখতে যাবো।

জমি পছন্দ হলে আছপিয়ার মায়ের নামে জমি হস্তান্তর ও ঘর নির্মাণ করা হবে বলে জানান ইউএনও বকুল চন্দ্র কবিরাজ।

আছপিয়ার বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ কমিটির সভাপতি জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, ‘আছপিয়ার নিয়োগ বাতিল করা হয়নি। তার আবেদনে স্থায়ী ঠিকানা ভুল উল্লেখ ছিল। তবে তার চাকরি হবে না, এটা কখনও বলা হয়নি। আছপিয়া যাতে নিয়োগবঞ্চিত না হন সে বিষয়ে ভাবা হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে বরিশাল জেলা থেকে আবেদন করেন আছপিয়া ইসলাম কাজল। ১৪, ১৫ ও ১৬ নভেম্বর বরিশাল জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি।

১৭ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। ২৩ নভেম্বর প্রকাশিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফলেও তিনি কৃতকার্য হন। ২৪ নভেম্বর পুলিশ লাইন্সে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় পঞ্চম হন আছপিয়া।

২৬ নভেম্বর পুলিশ লাইন্সে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২৯ নভেম্বর মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেখানেও কৃতকার্য হন আছপিয়া। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশনে ‘ভূমিহীন’ হওয়ায় ছিটকে পড়েন তিনি। কারণ তিনি বরিশাল জেলার স্থায়ী বাসিন্দা নন।

আলোকিত চট্টগ্রাম
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm