প্রতিশোধ—মামলা সাজাতে রক্তাক্ত হওয়া তরুণীকে পাঠানো হলো জেলে

প্রতিশোধ নিতে নিজেই নিজের মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত হয়েছিলেন তরুণী। এরপর করেন মামলা। তবে সেই মামলায় এবার নিজেই ফেঁসে গেলেন সেই তরুণী। আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে খুশী আক্তার নামের সেই তরুণীকে জেলহাজতে পাঠানের আদেশ দিয়েছেন।

সোমবার (১৮ এপ্রিল) চকরিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজিব কুমার দেব এ আদেশ দেন। চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিএসআই (ইন্সপেক্টর) মো. শফিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: পরাজয়ের প্রতিশোধ—এখানে-ওখানে লুকিয়ে সদরঘাটে ধরা পড়ল মেম্বারের ভাইয়ের খুনি

মামলার বাদি খুশি আক্তার (৩০) চকরিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের করাইয়াঘোনার আবদুল মজিদের স্ত্রী।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ৩০ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে পৌরসভার ৫নম্বর ওয়ার্ডের করাইয়াঘোনার আবদুল করিম, রেশমী আক্তার ও সাজেদা বেগম পরিকল্পিকভাবে খুশি আক্তারের বসতঘরে ঢুকে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করে তার মাথা ফাটিয়ে দিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

পরে আদালত এজাহারটি আমলে নিয়ে চকরিয়া থানাকে মামলা হিসেবে রেকর্ড এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দেন। চকরিয়া থানা পুলিশ আদালতের নির্দেশে মামলা এন্ট্রি করে তদন্ত শুরু করে। এরপর আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়ান।

শেষে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বাদী খুশি আক্তার প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজেই নিজের মাথা ফাঁটান।

আরও পড়ুন: পরাজয়ের প্রতিশোধ—র‌্যাবের জালে মেম্বারের ভাইয়ের খুনি

সোমবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে চকরিয়া থানা পুলিশ। আদালত তদন্ত প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে বিচারক বাদী খুশি আক্তারকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়ে মামলাটি খারিজ করে দেন।

এদিকে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মামলার আসামি আবদুল করিম। তিনি আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, সেদিন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন খুশি আক্তার। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

মুকুল/আরবি

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm