প্রতিবছর পড়ালেও এ বছর হয়নি তারাবির নামাজ পড়ানো, বাঁচলও না

নগরের পাঁচলাইশে পাঁচতলা ছাদ থেকে পড়ে মো. নাজিম উদ্দিন (২০) নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। নিহত মো. নাজিম বাঁশখালী গুনাগরি বাহারছড়া রাজধানী বাড়ির আশরাফ আলীর ছেলে।

বুধবার (৬ এপ্রিল) সকালে পাঁচলাইশ এলাকার পাসপোর্ট অফিসের পাশে মোমেন ম্যানশনের পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের বাবা আশরাফ আলী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমার ছেলে গত এক বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছিল। তার চিকিৎসা চলছিল। মাঝে মাঝে সে ঘর থেকে বেরিয়ে যেত। খুঁজে আবার বাসায় নিয়ে আসতাম। আমার ছেলে আনোয়ার জমিরিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ছিল। গত ২০১৪ সাল থেকে রমজানে মসজিদে তারাবির নামাজ পড়াত। এ বছরও পড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু মানসিক সমস্যার কারণে পড়াতে পারেনি।

আরও পড়ুন: বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কবির তালুকদারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

তিনি আরও বলেন, আজ সকালে আমার এক আত্মীয় কিছু টাকা নিয়ে আসে। আমি টাকাগুলো নিতে বাসার নিচে যাই। ওই সময় আমার ছেলে আমার পাশে ছিল। ছেলেকে বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিতে বলি। তখন সে বাসায় উঠে যায়। তারপর আমি টাকাগুলো নিয়ে বাসায় গিয়ে ছেলেকে দেখিনি। প্রথমে ভাবছিলাম টয়লেটে গেছে। এর কিছুক্ষণ পর বাসার দারোয়ান চিৎকার করলে দৌড়ে নিচে গিয়ে দেখি আমার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাঁচলাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাদিকুর রহমান আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন এক মাদ্রাসাছাত্রকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এএইচ/এসআই

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm