প্রতারণার টাকায় আবিরের বিলাসী জীবন

মোরশেদ রানা ওরফে আবির। তিনি কখনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের, আবার কখনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। চোখে দামি চশমা, হাতে আংটি, গলায় সোনার চেইন ও দামি স্যুট পড়ে ঘুরে বেড়ান বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও তারকা মানের হোটেলে। কথা বলেন ইংরেজিতে। তার এমন চলাফেরায় মনে হতে পারে তিনি ‘বিরাট’ বড়লোক।

আবিরের উচ্চবিত্ত চলাফেরা থেকে শুরু করে সবকিছুই ছিল প্রতারণা। সরকারি চাকরি ও ইউরোপ পাঠানোর কথা বলে বিভিন্নজনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত প্রতারণার অভিযোগে তাকে আটক করেছে র‌্যাব-৭।

সোমবার (১৪ মার্চ) বিকালে হালিশহর এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন কোম্পানির ৬টি ভিজিটিং কার্ড, একাধিক ব্যাংকের ৮টি চেক বই, ৬টি এটিএম কার্ড, বিভিন্ন ব্যক্তির ৮টি পাসপোর্ট, ১০টি স্ট্যাম্প, ৩টি অঙ্গীকারনামা, ২৫টি এনআইডি কার্ডের ফটোকপি, ৭৫টি ছবি ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: ইরাকফেরত যুবকের প্রতারণার নয়া ফাঁদ

মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নূরুল আবছার।

আটক মোরশেদ রানা ওরফে আবির (২৮) লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার পূর্ব শেরপুর এলাকার মো. শামসুল হকের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, আটক মোরশেদ রানা ওরফে আবির নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টার্গেট করা শহরে অবস্থান করেন। তারপর সুবিধামত জায়গা নির্ধারণ করে বাসা ভাড়া নেন। এরপর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও তারকা মানের হোটেল ঘুরে বেড়ান। সেখানে সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে চাকরি ও ইউরোপ পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন। পরে তাদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করে সখ্যতা গড়েন।

এরপর বিশ্বাস অর্জন করতে পারলে বায়োডাটা ফরম পূরণ করে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে শিক্ষা সনদ, এনআইডি কার্ড, ছবি, মোবাইল নম্বর ও স্থায়ী ঠিকানা সংগ্রহ করেন। তারপর তাদের নামিদামি হেয়ার কাটিং ও ভালো পোশাক পড়ে শহরের তারকা মানের হোটেলে আসতে বলেন ভাইভা পরীক্ষা দেওয়ার জন্য।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম রেলে প্রতারণার ফাঁদ, টাকা মেরে খাচ্ছে দুই ভাই সাকিব—তানিম

র‌্যাব জানায়, ভিকটিম হোটেলে পৌঁছালে তাকে ওয়েটিং রুমে বসিয়ে রাখা হয়। তারপর ‘বস’ আপনাকে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে দেখবেন বলে কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সেজে ফাইলপত্র নিয়ে লিফটে উঠার অভিনয় করেন। কিছুক্ষণ পর এসে বলেন, বস আপনাকে পছন্দ করেছে চাকরি হয়ে যাবে। শেষে বলেন, আপনার রেজাল্ট খারাপ, উচ্চতা কম, বুকের মাপ কম, চোখের দৃষ্টিতে সমস্যা আছে। সবশেষে বলেন, তিন থেকে চার লাখ টাকা দিলে চাকরি হবে। এভাবে একজন থেকে দশ থেকে বার লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেন। পরে উধাও হয়ে যান।

এ বিষয়ে র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নূরুল আবছার আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, চাকরির প্রলোভন ও ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে সহজ-সরল মানুষকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মোরশেদ রানা ওরফে আবিরের বিরুদ্ধে। তিনি বিভিন্ন সময় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সেজে তারকা মানের হোটেল ও বিমানবন্দরে দেখা করে ভিকটিমদের বিশ্বাস অর্জন করে প্রতারণা করে আসছিলেন। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আটক রানাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এএইচ/আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm