পেঁয়াজের দাম—পাইকারিতে কমছে, খুচরা বাজারে আগুন

সরকার পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করায় পাইকারি বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। পাইকারি বাজারে অর্ধেক হয়ে গেছে পেঁয়াজের দাম। কিন্তু খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাবই পড়ছে না। খুচরা বাজারে পেঁয়াজে এখনো ঝরছে আগুন।

খুচরা বাজারে বৃহষ্পতিবার (২৮ অক্টোবর) দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৬০ থেকে ৬২ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। অথচ খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারিতে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়!

এদিকে মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজের দাম আরও কম। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে মিয়ানমারের প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২০ থেকে ২৪ টাকা। অথচ সেই পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়!

তবে বাড়তি দাম নেওয়ার কথা মানতে নারাজ খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের যুক্তি, কম দামে যেসব পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি হচ্ছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এসব পেঁয়াজ কয়েক মাস আগে আমদানি করা। ফলে বস্তা খোলার পর দেখা যায় অর্ধেক পেঁয়াজ পঁচা। যার কারণে যে দামে কেনা বিক্রি করতে হয় তার দ্বিগুণ দামে।

Thai Food

আরও পড়ুন: টিসিবির তেল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখায় জরিমানা গুনলো ৬ দোকান

জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর থেকে দেশের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। দাম স্বাভাবিক রাখতে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছে টিসিবি। এরপরও  একই সময়ে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দ্রুত বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। অক্টোবরের মাঝামাঝি সরকার আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলে পাইকারিতে কমতে থাকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম।

এই সময়ে পাশের দেশ মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে আসে। ভারত থেকেও টনে টনে পেঁয়াজ ঢুকে দেশের বাজারে। খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, পেঁয়াজের পাইকারি দাম কমতে কমতে ২০ টাকায় চলে এসেছে। খাতুনগঞ্জের প্রতিটি গুদামেই এখন পেঁয়াজে ভর্তি। এখানে কোন সিন্ডিকেট নেই। পেঁয়াজের দাম এখন কমতির দিকে।

খাতুনগঞ্জের রাঙ্গুনিয়া ট্রেডিংয়ের মো. কুতুব উদ্দিন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, খুচরায় এখনো প্রভাব না পড়লেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে খুচরায় কমবে পেঁয়াজের দাম। কারণ অনেক খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে হয়ত বেশি দামে কেনা পেঁয়াজ রয়েছে, তাই তারা বিক্রি করতে পারছেন না। মিয়ানমার ও ভারত থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আসছে। আশা করি দুয়েকদিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমবে।

এসি
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm