পূর্ণিমা-চন্দ্রগ্রহণে শক্তি বাড়বে ইয়াসের, ‘গতিপথ’ ঘিরেই যত শঙ্কা

শক্তি বাড়িয়েছে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। এর সঙ্গে পূর্ণিমা ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ যোগ হওয়ায় আবহাওয়াবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কারণ ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়েও যে ছিল পূর্ণিমা! ৩০ বছর পর সেই পূর্ণিমায় আবার আসছে আরেক ঘূর্ণিঝড়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ণিমা ও চন্দ্রগ্রহণ শক্তি বাড়াবে ইয়াসের। ফলে স্থলে আঘাত করার সময় ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ আরও বেশি হবে। সবমিলিয়ে উপকূলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও প্রবল।

বুধবার ২০২১ সালের প্রথম ও শেষ ‘ব্লাড মুন’। আর এটি এমন এক সময় হচ্ছে যখন আসছে ইয়াস।

এদিকে জোয়ারের সময় যদি ইয়াস আঘাত হানে তবে এর গতি আরও বাড়বে। এমনিতেই গতি বাড়িয়েছে ইয়াস, এর সঙ্গে জোয়ার যোগ হলে ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আধিকারিক জি কে দাস বলেন, কোন সময়ে ইয়াস স্থলভাগে আছড়ে পড়বে এখনও তা নিশ্চিত নয়। তবে যদি জোয়ারের সময় আছড়ে পড়ে এর প্রভাব মারাত্মক হবে।

এদিকে আশার বাণী শুনিয়েছে দেশের আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে ইয়াস। এর যে গতিমুখ সেই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত হবে।

তবে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, ঝড়ের গতিমুখ যে সবসময় একইরকম থাকে তা নয়। অনেক সময় দেখা যায় শেষদিকে গতিপথ পরিবর্তন হয়। অনেক সময় দেখা যায়, আরব সাগরের ঝড়ও বঙ্গোপসাগরে চলে এসেছে। সুপার সাইক্লোন আম্পান, আইলা, সিডরও কিন্তু গতিমুখ পরিবর্তন করেই উপকূলে আঘাত হেনেছিল।

এদিকে আইএমডি বলছে, ২৬ মে সকালের দিকে উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে চলে আসবে ইয়াস। দুপুরের দিকে উড়িষ্যার প্যারাদ্বীপ ও পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মধ্যভাগ দিয়ে বালাসোরের কাছে স্থলভাগে উঠে আসবে। ওইসময় এটি অতিপ্রবল ঝড় হিসেবে তাণ্ডব চালাবে।

অপরদিকে দেশের আবহাওয়া অফিস বলছে, বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৫৪ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিমি। এটি দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিমি পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে। তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ২ (দুই) নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখানো হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আলোকিত চট্টগ্রাম

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm