কী কারণে ঘরের আলমিরায় পিএসসির ২২৩ সনদপত্র লুকিয়ে রেখেছিল শিক্ষা অফিসের কর্মচারী

২২৩টি সনদপত্র উদ্ধার করা হয়েছে কক্সবাজারের পেকুয়া থেকে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কর্মরত মাস্টার রোলের কর্মচারী মঈন উদ্দিন মনিরের বাড়ির আলমিরা থেকে পিএসসি’র (প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা) এসব খালি সনদপত্র উদ্ধার করা হয়।

রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মনিরের বাড়ি পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে সনদপত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় পেকুয়া প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সরকারি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ১০-১২ বছর ধরে পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে মাস্টার রোলে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত রয়েছেন মঈন উদ্দিন (২৮) নামের এক যুবক। পরিবারের বনিবনা না হওয়ায় ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকালে পুলিশের মাধ্যমে তিনি তার কক্ষের মালামাল থানায় নিয়ে যান।

মঈন উদ্দিন কক্ষের সব মালামাল নিয়ে গেলেও একটি স্টিলের আলমিরা থানায় নিয়ে যাননি। পুলিশ বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর মনিরের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মাঝে ওই আলমিরা নিয়ে সন্দেহ হয়। এরপর তারা সেটি খুলে দেখেন।

Yakub Group

আরও পড়ুন: কর্ণফুলীর চরেই ৪৪ সরকারি অফিস হচ্ছে ১১০ একর জায়গার ওপর

এসময় মনিরের কক্ষে থাকা স্টিলের আলমিরায় পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র দেখা যায়। তৎক্ষণাৎ মনিরের ছোটভাই স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মীকে বিষয়টি অবহিত করেন। রাতেই সংবাদকর্মীরা মনিরের বাড়িতে সংবাদ সংগ্রহের জন্য উপস্থিত হন।

এসময় সংবাদকর্মীরা বিষয়টি ফোনে কক্সবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালামত উল্লাহ খান দ্রুত তাঁর পক্ষে পেকুয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হানিফ চৌধুরী ও সরকারি স্কুলের শিক্ষক মো. শাহাব উদ্দিনকে মনিরের বাড়িতে পাঠান।

পেকুয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিনিধি দলের প্রধান মাস্টার হানিফ চৌধুরী স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে মনিরের কক্ষের আলমিরা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর প্রায় ২২৩ কপি সনদপত্র (খালি) ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করেন। উদ্ধার করা এসব কাগজপত্রের জব্দ তালিকাও স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে প্রস্তুত করে শিক্ষা অফিসে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন: প্রবাসীর স্ত্রীকে জাল সনদ তৈরি করে দিয়ে ফেঁসে গেল যুবক

পরে হানিফ চৌধুরী সংবাদকর্মীদের বলেন, সরকারি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র মনিরের বাসার আলমিরা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি সনদপত্র নিজ হেফাজতে রাখা গুরুতর অপরাধ। এ ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এ প্রসঙ্গে পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালামত উল্লাহ খান বলেন, খবর পাওয়ামাত্রই শিক্ষা অফিস থেকে দুজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে মনিরের বাড়িতে পিএসসির সনদসহ কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বলরাম/এসি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm