ছেলে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন হাসপাতালের বেডে। ছেলের কষ্ট দেখে
হাউমাউ করে কাঁদছেন অসহায় মা-বাবা।
এ দৃশ্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের। অসহায় মা-বাবা শুধু জানতে চান, কোন অপরাধে তাদের ছেলেকে এ কষ্ট পেতে হচ্ছে।
হাসপাতালে কাতরানো তরুণের নাম আমিনুল ইসলাম সাগর (১৮)। পেশায় স্কাভেটর চালক। ৫ জুন বিকেলে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের চায়না ইকোনমিক জোনের পাশের সড়কে দুর্ঘটনার কারণেই তাঁর এ হাল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রচণ্ড বাতাসে ছিঁড়ে যায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটির তার। দিনের পর দিন পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেটি ঠিক করেনি। স্কেভেটর নিয়ে যাওয়ার সময় সেই তারে লেগেই ঝলসে যায় সাগর।
আনোয়ারার জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলার বাড়ির বাসিন্দা সাগর। তাঁর বাবা মো. কামাল, মা আকতার বেগম।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শেখ আহাম্মদ জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিটি হেলে পড়ে। পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনকে বারবার বলার পরও তারা ঠিক করেনি। দুর্ঘটনার পর তারা ঠিক করতে এসেছে।
শেখ আহাম্মদ অভিযোগ করেন, পল্লী বিদ্যুতের কোনো সমস্যা হলে টাকা ছাড়া ঠিক করতে আসে না। দূর্ঘটনাস্থলের পাশে আরো দুই-তিনটা খুঁটি হেলানো অবস্থায় আছে, তারা এগুলো ঠিক করছে না।
এদিকে দুর্ঘটনার পর সাগরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। কিন্তু এখনও তাঁর অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি বলে জানান সাগরের বাবা কামাল।
তিনি আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমরা দিনমজুর, ছেলের চিকিৎসার খরচ যোগাতে পারছি না। যে পল্লী বিদ্যুতের তারে লেগে আমার ছেলের শরীর ঝলসে গেছে তাদের কেউ একটু খবর পর্যন্ত নিলেন না।
এ ব্যাপারে আনোয়ারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম জসিম উদ্দিনের দৃষ্ট আকর্ষণ করা হলে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, তারা স্কাভেটর নিয়ে বিদ্যুতের তারের ভেতর কেন গেল? বিদ্যুতের তার ধরার রাইট নেই তাদের।
বিদ্যুতের তার কি খুঁটিতে উঠে ধরেছেন সাগর? এ প্রশ্নের উত্তরে ডিজিএম বলেন, বিদ্যুতের তার সে ধরতে গেল কেন? এ দুর্ঘটনায় আমরা দায়ী নয়।
পরে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়— দিনমজুর পরিবারের ছেলে সাগর, যেহেতু পল্লী বিদ্যুতের লাইনে আহত, সেহেতু দায়িত্বরত কর্মকর্তা হিসেবে খোঁজ খবর নেওয়া আপনার উচিত নয় কি? উত্তরে ডিজিএম জসিম বলেন, দোয়া করা ছাড়া আমার কিছুই করার নেই, আপনিও দোয়া করেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেলের ৩৬ নম্বর বার্ন ওয়ার্ডের ২ নম্বর সিটে ছটফট করছেন ঝলসে যাওয়া সাগর। পাশে থাকা অসহায় বাবার চোখ থেকে গগিয়ে পড়ছে পানি। চোখের পানি মুছে কিছুটা শক্ত হয়ে বললেন, আমি আনোয়ারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নামে মামলা করবো। তাদের দায়িত্বহীনতার কারণে যেন আর কোনো মা-বাবকে চোখের পানি ফেলতে না হয়।
আলোকিত চট্টগ্রাম
