‘পরকীয়া’ প্রবাসীর সংসার তছনছ করে ভারতে পালাল সেই ইউপি সদস্য

প্রবাসী বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় মজেছেন হাটহাজারীর ১২নং চিকনদন্ডী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইমন শীল রবিন। বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী অভিযোগ দিলে তদন্ত শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু গত দেড় মাসেও তদন্ত শেষ করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন। আর এই ফাঁকে ভারতে চলে গেছেন ওই ইউপি সদস্য।

এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্য থেকে উপজেলা প্রশাসনকে অভিযোগ করেন প্রবাসী স্বামী রাজিব খাস্তগীর।

তিনি একটি লিখিত ও ভিডিও বার্তায় বলেন, আমি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে প্রবাসজীবন পার করছি। এর মধ্যে অনেকবার দেশে আসা-যাওয়া করেছি। বাড়িতে আমার স্ত্রী ও চার বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। গত এক বছর ধরে আমার বন্ধু ইউপি সদস্য ইমন শীল রবিন বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে। বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি এবং ওদের অন্তরঙ্গ অবস্থায় থাকা কিছু ছবিও পেয়েছি। ইমন আমাদের সাজানো সংসার নষ্ট করেছে।

এদিকে বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের কিছু অন্তরঙ্গ ছবিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাসছে। এছাড়া তাদের অবাধ মেলামেশা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, একজন জনপ্রতিনিধির সমাজে নৈতিক শিক্ষা চালু করার কথা। উল্টো তিনি এখন অন্যের সংসার ভাঙছেন। এতে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীর বিচার নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

Yakub Group

এদিকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ইমন শীল রবিন ভারতে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগ করা হলে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন। কমিটি অভিযুক্ত ইমন শীল রবিনকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শুনানিতে উপস্থিত হতে বলে। তবে ইমন শীল রবিন কমিটির কাছে কোনো উত্তর না দিয়ে ভারত পাড়ি জমিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য লিটন দাশ আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ইমন শীল রবিনের সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের বিষয়। শুনেছি ওখানে প্রবাসী রাজিবের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে রবিন বর্তমানে বাংলাদেশে নেই। আমার জানামতে তিনি ভারতে চলে গেছেন।

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম বলেন, প্রবাসী রাজিব খাস্তগীরের অভিযোগের ভিত্তিতে ইউপি সদস্য ইমন শীল রবিন ও নারীকে ৩১ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসনের শুনানিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু দুজনের কেউ উপস্থিত না হওয়ায় শুনানি করা যায়নি।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিদুল আলম বলেন, অনলাইন মারফত রাজীব খাস্তগীর নামে এক প্রবাসীর অভিযোগ পেয়েছিলাম। অভিযোগ আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই করছি। তদন্তে রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এসআই/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm