পটিয়ায় পরিত্যক্ত পানি থেকে উৎপাদন হচ্ছে টনে টনে লবণ। এ লবণ উৎপাদনের রের্কড গড়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ার ইন্দ্রপুল লবণশিল্প এলাকার ব্যবসায়ীরা। মৌসুমে এখানে প্রায় ১০ কোটি টাকার লবণ উৎপাদন হচ্ছে। তবে এ লবণ খাওয়ার উপযোগী না হলেও ব্যবহার হচ্ছে মাছের খামার, কৃষিকাজ, চামড়া সংরক্ষণসহ নানা কাজে। এ লবণের দামও একেবারে কম, প্রতি কেজি ৬ থেকে ৭ টাকা।
জানা যায়, ইন্দ্রপুল এলাকায় লবণ ক্রাশিংয়ের পর কারখানার পরিত্যক্ত পানি জমিয়ে এক কোণায় পুকুরের মতো করে জমানো হয়। সেখানে চাঁনখালী খালের মিঠা পানি আর ফিটকিরি দিয়ে পাইপের মাধ্যমে সরাসরি আনা হয় জমিতে সারি সারি করে রাখা পলিথিন দিয়ে গড়ে তোলা লবণ উৎপাদনের ট্রেতে। এরপর সেই পানি পলিথিনের ওপর রোদে শুকালে ৫-৭ দিনের মধ্যে লবণে পরিণত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ৭-৮ বছর আগ থেকেই স্বল্প পরিসরে ইন্দ্রপুলের লবণ কারখানার পরিত্যক্ত পানি পুনরায় রোদে শুকিয়ে লবণ তৈরি করা হচ্ছে। পটিয়া ছাড়া দেশে আর কোথাও এভাবে লবণ উৎপাদনের নজির নেই। ইন্দ্রপুল লবণশিল্প এলাকার আশপাশে যেসব জমিতে চাষাবাদ হতো না বর্তমানে সেসব জমি লবণের মাঠে পরিণত হয়েছে। এখানে লবণ চাষ করে মৌসুমে প্রায় ১০০ একর জমিতে ৮ থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হচ্ছে। যা থেকে আয় প্রায় ১০ কোটি টাকা!
আরও পড়ুন : চকরিয়ায় কাফনের কাপড় পরে লবণ চাষিদের বিক্ষোভ
জানা গেছে, ১৯৫২ সালের দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠে পটিয়া ইন্দ্রপুল এলাকার লবণশিল্প। এ শিল্প এলাকায় ৪৪টি লবণ পরিশোধন কারখানা থাকলেও বর্তমানে চালু রয়েছে ৩০টি। প্রতিদিন ৫-৬ হাজার শ্রমিক এসব কারখানায় কাজ করছেন। পাশাপাশি লবণের কমিশন এজেন্ট রয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ জন।
এ বিষয়ে পটিয়া লবণ মিল মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আগে দেশের দক্ষিণাঞ্চল কক্সবাজার, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী থেকে পটিয়া ইন্দ্রপুল লবণশিল্প এলাকায় শত শত ট্রাকে করে লবণ আসতো। লবণগুলো এখানকার মিলে ক্রাশিং করে চিকন দানায় পরিণত করে আয়োডিন মিশিয়ে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করে সারাদেশে পাঠানো হয়। তবে বর্তমানে এ ব্যবসায় ধস নেমেছে।
ইসলামাবাদ সল্টের স্বত্বাধিকারী অহিদুস ছমদ হেলাল বলেন, চট্টগ্রাম-পটিয়া-কক্সবাজার মহাসড়ক সম্প্রসারণের সময় ইন্দ্রপুল লবণশিল্প এলাকার বেশ কয়েকটি মিল ভেঙে ফেলা হয়। সেসময় অধিগ্রহণ করা হয় বেশকিছু জায়গা। আগে ছোট-বড় ৪০টি লবণের মিল ছিল। এখন তা ৩০টিতে গিয়ে ঠেকেছে। এতে দিন দিন শিল্পাঞ্চলটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
সুলতানপুরী সল্টের স্বত্বাধিকারী মো. ফারুক বলেন, ইন্দ্রপুলের জমিতে যে লবণ হচ্ছে তা খাওয়ার উপযোগী নয়। সেগুলো মাছের খামার, চামড়ার আড়ত এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পটিয়া বিসিক কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র সানা আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ২০২১ সালে প্রায় ৫০০ ফুট দূরে নতুন জায়গায় শিল্পাঞ্চলটি স্থানান্তরের জন্য একটি লিখিত প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
আলোকিত চট্টগ্রাম


