নোংরা মেঝে—চারদিকে মাকড়সার জাল, কালো তেলে বানানো হয় শিশুদের ‘চিপস’

শিশুদের প্রিয় খাবারের যদি তালিকা করা হয়, তবে সেই তালিকায় প্রথমদিকেই থাকবে ‘চিপস’। ঘর থেকে বের হলেই চোখধাঁধানো লাল-নীল প্যাকেটে চিপস, শিশুদের চাই-ই চাই। কিন্তু আপনার শিশুর সেই প্রিয় খাবারটি যদি হয় বিষাক্ত?

কী, চমকে উঠলেন? হ্যাঁ, ভয় পাওয়ার মতো চিপস বানানোর এমনই চিত্র পাওয়া গেল চট্টগ্রামে।

নগরের পাহাড়তলী ছদু চৌধুরী রোডের বিসমিল্লাহ ফুড প্রোডাক্টসের কারখানা। কারখানাটিতে ঢুকতেই গা গুলিয়ে যাওয়ার দশা। নোংরা মেঝে, মাকড়সার জালে ভরা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে। আর সেখানেই কালো তেলে চলছে চিপস বানানোর মহা আয়োজন!

বিষাক্ত পরিবেশে ওই কারখানায় এভাবেই দিনের পর দিন চলছিল চিপস তৈরি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে বিসমিল্লাহ ফুড প্রোডাক্টসের সেই

কারখানায় হানা দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে চিপসের সেই কারখানার পরিবেশ দেখে হতবাক হয়ে যান খোদ ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তাও!

বৃহস্পতিবারের (১১ সেপ্টেমর) এই অভিযানে বিসমিল্লাহ ফুড প্রোডাক্টসের ওই কারখানাটি সিলগালা করে দেয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একইসঙ্গে করা হয় ৩ লাখ টাকা জরিমানা।

এদিকে এদিন নগরের দেওয়ানহাটেও অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর ও বাসি খাবার রাখায় ‘হোটেল সিটি আই’-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানে ‘মুসলিম হোটেল’ ও ‘দরবার ভাতঘর’-কে ৬ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বেচায় ফারিয়া মেডিকেল নামের একটি প্রতিষ্ঠানও  গুনে ৬ হাজার টাকা জরিমানা।

ভোক্তা অধিকার বলছে, শিশুখাদ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। যেভাবে বিষাক্ত পরিবেশে কালো তেলে চিপস তৈরি হচ্ছিল, তা আমাদের হতবাক করেছে। এসব ঠেকাতে কঠোর নজরদারি ছাড়া উপায় নেই।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm