চট্টগ্রাম ওয়াসার ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেল

চট্টগ্রাম ওয়াসার পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছেন আদালত।

রোববার চট্টগ্রাম তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ নুশরাত জাহানের আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে ৬ এপ্রিল প্রকল্পের কাজের ওপর অস্থায়ী নিষেধজ্ঞা জারি করেছিলেন আদালত।

ওয়াসার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাড. জিয়া হাবীব আহ্সান, অ্যাড. সৈয়দ মো. হারুন, অ্যাড. মো. সাইফুদ্দিন খালেদ, অ্যাড. মো. হাসান আলী, অ্যাড. মো. বদরুল হাসান ও অ্যাড. মো. জিয়াউদ্দীন। বাদী পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার আফরোজা আকতারসহ আরো কয়েকজন।

আরও পড়ুন: ‘লঙ্কাকাণ্ড’—সিআরবিতে হাসপাতাল, নিষেধাজ্ঞার মামলা গেল আদালতে

জানা যায়, আদালত বাদীপক্ষের একতরফা শুনানি শেষে ওয়াসার জবাব দাখিল পর্যন্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। ওয়াসা তার বক্তব্য আদালতে তুলে ধরার পর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রোববার আদেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার আদেশ দেন।

২০২১ সালে হালিশহরের ১৬৩.৮৫৫ একর জমিতে স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এর আগে ওই জমির বিষয়ে চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সেসব জমির বেআইনি ব্যবহার, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ চট্টগ্রামের একটি আদালতে খতিয়ান সংশোধন ও নিষেধাজ্ঞার মামলা করেন ভুক্তভোগী জমির মালিক ছৈয়দ মু. এনামুল হক মুনিরী।

আদালত মামলাটি গ্রহণ করে চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ বিবাদীদের কারণ দর্শানোর আদেশ দেন। আদালতের নোটিশ আমলে নেননি বিবাদীরা। ৪ এপ্রিল এ মামলায় শুনানি শেষে ৬ এপ্রিল স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, নগরের মধ্য হালিশহরের চৌচালা এলাকায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও স্যুয়ারেজ প্রকল্পের জন্য ১৯৬২-৬৩ সালে ১৬৩ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল ওয়াসা। দীর্ঘদিনেও প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় অধিগ্রহণ করা জমি ফেরত চেয়ে ২০০১ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন: বড় সঙ্কটে ইভ্যালি, এবার ‘নিষেধাজ্ঞা’ বিকাশের

২০১৪ সালে এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু সেই আদেশের বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে কাজ শুরু করায় আদালতে মামলা করেন হালিশহরের কৃষি জমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি সৈয়দ মু. এনামুল হক মুনিরী।

বর্তমানে এ জমিতে নগরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) ৩ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন ১০ কোটি লিটার পয়ঃবর্জ্য এবং ৩০০ ঘনমিটার ফিকাল স্লাজ পরিশোধন সম্ভব হবে। যা নগরের মোট পয়ঃবর্জ্যের ২০ শতাংশ এবং ফিকাল স্লাজের ৪১ শতাংশ।

এসআই/আলোকিত চট্টগ্রাম

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm