নিরীহ লোককে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ, এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

রাঙামাটি শহরে নিরীহ এক লোককে গাঁজা দিয়ে ফাঁসিয়ে আটকের অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার লোকজন কোতয়ালী থানা চত্বর ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের গাড়ির সামনে অবস্থান নেয়।

বুধবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় শহরের মালিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রাঙামাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই জসিম উদ্দিন গাঁজা দিয়ে ওই এলাকার বাসিন্দা খোকনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এদিকে এ অভিযানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেওয়ায় থানার সামনেই এসআই জসিমের উপর ক্ষিপ্ত হন উপপরিচালক মিজানুর রহমান শরীফ।

স্থানীয়রা জানান, আটক নিরীহ খোকনকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে এসআই জসিম উদ্দিন তাকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দরা শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় তাদের গতিরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে রাত আটটায় গাড়িতে করে খোকনকে কোতোয়ালি থানায় আনা হয়। এরপর পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বজনরা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে।

ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানায়, লকডাউনে মানুষ কষ্টে দিন পার করছে সেখানে গাঁজা কিনবে কোথা থেকে। বাসিন্দা সবাই হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং মালির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এসআই জসিম নিরীহ লোকজনকে ধরে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে থানায় দিচ্ছে। তারা এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে এসআই জসিমের বিচার চেয়েছেন।

এ বিষয়ে এসআই জসিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি থানার সামনে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের কটাক্ষ করে দ্রুত সটকে পড়েন।

এদিকে আটক খোকনের দাবি বুধবার সন্ধ্যায় প্রচণ্ড বৃষ্টি হওয়ার সময় পৌর কলোনীর সামনের একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এসময় আকস্মিকভাবে তিনজন লোক এসে আমাকে ধরে মারধর করতে থাকে। শরীর তল্লাশি করার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে দেখে আরেকজন একটি পুটলা বের করে বলে এটা তোর কাছ থেকে পাইলাম। এসময় আমাকে মারধর করে গলাচিপে ধরে।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বাইরে কী কারণে বিক্ষোভ হয়েছে জানি না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজন একজনকে ধরে এনেছে। প্রমাণ সাপেক্ষে হস্তান্তর করলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৌরকলোনিতে অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় ।

প্রসঙ্গত, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করলে ম্যাজিস্ট্রেট এবং থানা পুলিশকে সঙ্গে নিতে জেলা প্রশাসনের এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত না মেনেই রাঙামাটির মাদক নিয়ন্ত্রণ অফিসের কর্মকর্তারা শহরে এ পর্যন্ত একাধিক অভিযান চালানোয় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

আলমগীর/আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm