নিউমার্কেটে সংঘর্ষ—খুন : পরিচয় মিলল ঢাকা কলেজের ৫ অস্ত্রধারীর

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী ও দোকানকর্মীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে কুরিয়ার সার্ভিস কর্মী নাহিদ হোসেন হত্যায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনই ঢাকা কলেজের ছাত্র।

এদিকে কলেজসূত্র বলছে, অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার ৫ ছাত্রই ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত। তবে ডিবি বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে, ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। তাই তারা রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী কিনা, সেটি ঢালাওভাবে বলা যাবে না। তবে পাঁচজনই যে ঢাকা কলেজের ছাত্র এবং সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সামনের সারিতে ছিলেন, তা নিশ্চিত করেছে ডিবি।

এর আগে বুধবার (২৭ এপ্রিল) বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রধারী ওই পাঁচ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁরা হলেন— মো. আবদুল কাইয়ুম, পলাশ মিয়া, মাহমুদ ইরফান, মো. ফয়সাল ইসলাম ও মো. জুনাইদ বোগদাদী।

আরও পড়ুন: হল ছাড়বে না ঢাকা কলেজের ক্ষুব্ধ ছাত্ররা

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনই ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

ডিবি জানায়, ওই পাঁচজনকে গত বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) আদালতে হাজির করে নাহিদ হোসেন হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের বিষয় জানতে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডিবি

এতে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, নাহিদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার মাথার বাঁ পাশে চারটি, পিঠে তিনটি এবং পায়ে একটি ধারালো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তদন্তের এই পর্যায়ে নাহিদ হত্যায় যারা সরাসরি অংশ নিয়েছেন বা হত্যায় সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই সংঘর্ষের সময় সামনের সারিতে ছিলেন। তবে ঘটনার সময় কার কী ভূমিকা ছিল, সেটি জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যাবে।

তিনি বলেন, নিউমার্কেট এলাকায় ১৯ এপ্রিলের সংঘর্ষের সময় ব্যবসায়ী, হকার ও দোকানকর্মীদের সঙ্গে নাহিদও রাস্তায় নেমেছিলেন। হকারদের সঙ্গে নাহিদ বড় একটি ছাতা নিয়ে ঢাকা কলেজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন ছাত্ররা তাদের ধাওয়া দেয়। ছাতার কারণে নাহিদ হয়ত বুঝতে পারেননি যে পেছন থেকে হকাররা চলে গেছেন। তখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাহিদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন: নিউমার্কেট রক্তাক্ত : এক রাতেই ৩ মামলা, আসামি ৭০০

গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ ছাত্রের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি-না, জানতে চাইলে হাফিজ আক্তার বলেন, ঢাকা কলেজে তাদের (ছাত্রলীগ) কোনো কমিটি নেই। তাই তারা রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী কিনা, সেটি ঢালাওভাবে বলা যাবে না।

ওই দিনের সংঘর্ষে মো. মোরসালিন নামে ঢাকার নিউমার্কেটের একজন দোকানকর্মীও নিহত হন। তবে ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ডিবির প্রধান হাফিজ আক্তার বলেন, হত্যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী পাওয়া যায়নি। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সময় লাগবে। ধারণা করা হচ্ছে, মোরসালিন ইটের আঘাতে মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, ১৮ এপ্রিল রাতে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়। নিউমার্কেটের দুটি খাবারের দোকানের দুই কর্মীর বিতণ্ডা থেকে ঘটনার সূত্রপাত।

এর জের ধরে ১৯ এপ্রিল দিনভর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে বিভিন্ন বিপণিবিতানের দোকানমালিক-কর্মচারী ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। আহত হন অর্ধশত ব্যক্তি। এ ঘটনায় মোট পাঁচটি মামলা হয়েছে। মোট আসামির সংখ্যা ১ হাজার ৭২৪। এর মধ্যে হত্যা মামলা দুটি তদন্ত করছে ডিবি। অন্য তিনটি মামলা তদন্ত করছে নিউমার্কেট থানা পুলিশ।

৫ জনের পরিচয়
নাহিদ হত্যায় গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিস্তারিত পরিচয় জানায়নি ডিবি। তবে জানা গেছে, মাহমুদ ইরফান সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি নেত্রকোনায়। পলাশ মিয়া সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র। তার বাড়িও নেত্রকোনায়। আবদুল কাইয়ুম ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। থাকেন কলেজের উত্তর ছাত্রাবাসে।
জুনাইদ বোগদাদী ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তিনি উত্তর ছাত্রাবাসের আবাসিক ছাত্র। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। ফয়সাল ইসলাম বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরে।

এর মধ্যে ইরফান, পলাশ ও কাইয়ুম ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা জসীম উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ‘বিলুপ্ত’ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জসীম উদ্দিন বলেন, ঢাকা কলেজে গ্রুপ তো শুধু আমি একা চালাই না। এখানে বহু গ্রুপ আছে। সব আমার ওপর চাপিয়ে দিলে তো হবে না। গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে শুধু ইরফানকে চিনি। তবে তারা কেউই আমার অনুসারী না।

এসআই/আলোকিত চট্টগ্রাম

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm