বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হয়ে আমি সেদিন নির্বাচন করেছিলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। সেদিন ধানের শীষ প্রতীক যদিওবা ওই সময়কার প্রশাসনের কড়াঘাতে জিতেনি, কিন্তু মানুষের দৃষ্টিতে আমরা সেদিন মানুষের অন্তর জয় করেছিলাম। যার প্রেক্ষিতে তাদের ওই কারচুপির বিরুদ্ধে আমি ট্রাইব্যুনালে মামলা করি। আজকে ইনশাল্লাহ অন্তর্বতীকালীন সরকারের সময় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করার লক্ষ্যে আজকের এই অনুষ্ঠানে আমার দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত হয়েছেন।
বিশেষ করে আজকে এই শপথবাক্য পাঠ করানোর জন্য আমি যাদের প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ যারা প্রায় গত ১৫ দিন ধরে এই শপথ অনুষ্ঠান পাঠ করার জন্য এলআরজিইডি মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব থেকে শুরু করে যুগ্মসচিব, ডেপুটি সেক্রেটারি, কর্মকর্তাসহ যারা নিরলস পরিশ্রম করে আজকের এই অনুষ্ঠানের একটি সফল আয়োজনের সমাপ্তি করেছে সম্মানিত কর্মকর্তাবৃন্দদের আমি অন্তরের অন্তস্থল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এবং সাংবাদিক ভাইয়েরা যারা কষ্ট করে আজকে এখানে এসেছেন তাদেরও ধন্যবাদ জানাই।
রোববার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় স্থানীয় সরকার বিভাগের কার্যালয়ে শপথবাক্য পাঠ শেষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এসব কথা বলেন।
এসময় চট্টগ্রামকে নিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রথমে আমি বলছি, ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে জিওগ্রাফিক্যাল ডিস্ট্রিবিউশনে এমন একটি জায়গায় আছে পাহাড়, সমুদ্র, পর্যটন, স্পেশাল ইকোনমিক জোন থেকে শুরু করে প্রতিটি এই চট্টগ্রাম নগরীর ওপর দিয়ে যেতে হবে। কাজেই আমরা যেটা মনে করছি, আজকে বাংলাদেশকে বাঁচানোর যে চিন্তা কাজেই চট্টগ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। এটা কিন্তু অস্বীকার করার কোনো জো নাই।
চসিক মেয়র বলেন, আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের জিডিপিতে তিন খাত এখনও পর্যন্ত তার সমস্ত কিছু ঢেলে দিচ্ছে। সেগুলো হচ্ছে গামেন্টস খাত, মানবসম্পদ ও এগ্রিকালচার্স। যেটা দেখেছেন যে, সেই শহীদ প্রেডিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে সেটি এসেছে। কিন্তু চতুর্থ একটি খাত এখনও পর্যন্ত আমরা জিডিপিতে দিতে পারছি না, সেটি হচ্ছে পর্যটন। যে পর্যটনশিল্পকে সামনে রেখে আজকে আমাদের সার্কমুক্ত দেশগুলো এগিয়ে যাচ্ছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশ এন্টিএডভাইসমেন্ট-জঙ্গি এসব কথা বলে বলে আজকে আমরা আমাদের এই খাতকে ঠিকমত ব্যবহার করতে পারিনি। আমি মনে করি, চট্টগ্রাম এমন একটি জায়গায় আছে আজকে আপনি যদি প্রথম চিন্তা করেন বাংলাদেশের কোন জায়গায় আপনি যাবেন সেটা হচ্ছে কক্সবাজার। এরপর কোন জায়গা চিন্তা করবেন? বান্দরবান, এরপর রাঙামাটি অথবা খাগড়াছড়ি। কাজেই সবকিছু কিন্তু চট্টগ্রাম শহরের ওপর দিয়ে যেতে হবে। আমার মনে হয়, চট্টগ্রাম শহরের ইন্টারস্ট্রাকচার যদি আমরা ডেভেলপ করতে পারি, এটা শুধু আমার স্বার্থে নয়, এটা বাংলাদেশকে বাঁচানোর স্বার্থে। সেন্ট্রাল গর্ভনমেন্টকে আমাদের যে সরকার আছে সম্মানিত উপদেষ্টা এখানে আছেন উনি ইনশাল্লাহ আমি মনে করি তিনি যদি প্রধান উপদেষ্টার সাথে কথা বলে বাজেট দিয়ে এবং যে কর্মচাঞ্চল্য আমরা দেখতে পাচ্ছি স্পেশাল ইকোনমিক জোন অ্যান্ড এনার্জি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কুতুবদিয়া-মহেশখালী হচ্ছে জাপানের সাথে কিংবা অন্যান্য কেন্দ্রের সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চারের যে কাজগুলো হচ্ছে সে টাকা দিয়ে হলেও চট্টগ্রামের ইন্টারস্ট্রাকচার যদি ডেভেলপ করা যায় তাহলে কিন্তু বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে ভয়কে জয় করল কিশোরীরা

ডা. শাহাদাত বলেন, আমি মনে করি, এই মুহূর্তে চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি বলতে চাই যে, এটা আসলেই খুবই দরকার। এই প্রেক্ষিতে মনে করি যে আমাদের চট্টগ্রামে যেহেতু বেশ কয়েক মাস দায়িত্বে কেউ ছিল না যার কারণে চট্টগ্রামের বর্তমানের রাস্তাঘাটের অবস্থা বিভিন্নভাবে খুব বেসামাল। ইনশাল্লাহ আমি আশা করছি, আপনাদের দোয়ায় আমি দ্রুত দায়িত্ব নিয়ে সমাধান করবো। চট্টগ্রামের মূল সমস্যা জলাবদ্ধতা। এখানে স্পষ্ট বলে রাখছি জলাবদ্ধতার যে প্রকল্পটি সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে হওয়ার কথা ছিল সেটি ২০১৬ সাল থেকে সিডিএর মাধ্যমে হচ্ছে। প্রায় এগারো হাজার প্রকল্পের এই প্রকল্পটি হয়তো আরো বাড়তে পারে। সেটি ২০২৬ সালে হয়তোবা শেষ হবে তখনই জলাবদ্ধতার একটি রেজাল্ট আমরা পাব। কিন্তু আমি যেটা মনে করি সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে আমার দায়িত্ব আছে। এখানে যারা সেবা দানকারী সংস্থা আছে সিডিএসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসা, ট্রাফিক বিভাগ, পুলিশ কমিশনার, টিঅ্যান্ডটি; সব সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে নিয়ে আমি অলমোস্ট ট্রাই করব একসাথে কাজ করে চট্টগ্রামকে একটি প্ল্যান্ট সিটি করার জন্য। সেক্ষেত্রে আমি সবার সহযোগিতা কামনা করছি। কারণ এটা আসলে একটা সিস্টেমের ব্যাপার। আমরা অনেকদিন থেকেই বলে আসছি একটা নগর সরকারের কথা। কিন্তু এটা যদি সরকারের সদিচ্ছা থাকে, যদি নগর সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে এই উন্নয়নগুলি পরিকল্পিতভাবে হবে। কাজেই এটা একটা সিস্টেমের ব্যাপার। মাননীয় উপদেষ্টা সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং উনি আসলে ইনফ্যাক্ট ওনার সাথে তো সবারই ভালো সম্পর্ক আছে। এই দিক দিয়ে যদি এই ধরনের একটা কনসেপ্ট নিয়ে আগানো যায় তাহলে সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো দেখেন ওয়ার্ল্ড আন্ডার ওয়ান আমব্রেলা সিটি কররপোরেশনে। সুতরা আমার মনে হয়, এই জিনিসগুলো যদি আমরা চিন্তাভাবনার মধ্যে আনি তাহলে একটা প্ল্যান সিটি আমরা করতে পারবো।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমি এই কয়েকদিন ঢাকায় ছিলাম। আমি ঢাকা সিটি করপোরেশন দেখেছি। তাদের কাজগুলো দেখেছি। আমি রাজশাহী গিয়েছি। রাজশাহীকে তারা সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন। রাজশাহীতে একটা সুবিধা হচ্ছে আপনারা জানেন যে, মানুষ খুবই কম। ১০ লক্ষ-১১ লক্ষের মতো মানুষ এবং ভোটার হচ্ছে সাড়ে তিন লক্ষ। কিন্তু চট্টগ্রামে প্রায় সত্তর লক্ষ মানুষ । আর আমাদের ভোটার হচ্ছে আমরা যখন ২১ সালে নির্বাচন করেছি তখন ২০ লক্ষ ভোটার ছিল। কাজেই এটা একটা বিগ সিটি। আমি যদি এটা মনে করি এই শহরটা শুধু আমার একার নয়, এই শহরটা হচ্ছে আমাদের। এই কথাটা যদি আমরা মনে করি আমরা যদি দেশপ্রেম, সততার সাথে কাজ করে এগিয়ে যেতে পারি আশা করি চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশ নয় এই সাউথ এশিয়ার মধ্যে গর্ব করে বলতে পারবে যে, আমরাও এগিয়ে যেতে পারি অ্যাডভান্সড কান্ট্রির মতো। কাজেই চট্টগ্রামকে নিয়ে আমি বলতে যেটা চাই, আমাদের সবাইকে চট্টগ্রামকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে। কারণ চট্টগ্রাম বাঁচলেই বাংলাদেশ বাঁচবে। আমার স্যার যে কথা বলেছেন, গ্রিন সিট, ক্লিনি সিটি ও হেলদি সিটি। এটা কিন্তু আমার নির্বাচনের ইশতেহারে ছিল। কাজেই এই ইশতেহার পূর্ণ করার জন্য আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাব।
প্রসঙ্গত, আজ সকাল ১১টায় স্থানীয় সরকার বিভাগের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ।
আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম


