চট্টগ্রামের প্রবেশপথেই করোনার তীব্র ছোবল, জেলাজুড়ে বিষ

দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে চট্টগ্রাম নগরে শনাক্তের সংখ্যা ছিল বেশি। উপজেলাগুলোর মধ্যে হাটহাজারী ছিল হটস্পট জোনে।

গত কিছুদিনে ফটিকছড়ি উপজেলায় বেড়েছে সংক্রমণ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লকডাউন ঘোষণা করা হয় ফটিকছড়িতে।

এসময়ে রাউজান-রাঙ্গুনিয়াসহ পুরো উত্তর চট্টগ্রামেই বাড়ে শনাক্তের সংখ্যা। গত কয়েকদিনে দক্ষিণের তুলনায় উত্তর চট্টগ্রামে করোনা শনাক্ত হয়েছে কয়েকগুণ বেশি।

শুধু উত্তর চট্টগ্রামেই নয়, পুরো জেলাতেই এখন বাড়ছে করোনা শনাক্তের সংখ্যা। গত ১ জুলাই চট্টগ্রামে গত কয়েকমাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই জেলায় একাধিকবার ৩০ শতাংশের বেশি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়।

সর্বশেষ রোববার (৪ জুলাই) আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের ১ হাজার ৮৯ নমুনা পরীক্ষায় ৩৬৯ জনের করোনা শনাক্তের খবর জানিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। শনাক্তদের মধ্যে ২২৩ জন নগরের এবং ১৪৬ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

একইসময়ে জেলায় ৬ জন করোনা রোগী মারা গেছেন। যার মধ্যে নগরের ২ জন ও উপজেলার বাসিন্দা ৪ জন।

চট্টগ্রামে এ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭১৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর। অন্যদিকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের মোট ৬০ হাজার ৩৬৮ নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে।

সংক্রমণের এ ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে করোনার ‘হটস্পট‘ জোনে পরিণত হয়েছে মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলা।

চট্টগ্রামের প্রবেশপথের উপজেলা হিসেবে পরিচিত এ দুই এলাকায় গত সাতদিনে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩০৮ জনের। এরমধ্যে মিরসরাইয়ে ১২৯ জন এবং সীতাকুণ্ডে ১৭৯ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়।

আগের ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় সোমবার (২৮ জুন) মিরসরাইয়ে ৪ জন ও সীতাকুণ্ডে ৮ জনের করোনা শনাক্তের খবর জানায় চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) মিরসরাইয়ে ২১ জন ও সীতাকুণ্ডে ৩৩ জনের করোনা শনাক্তের খবর মেলে।

এছাড়া বুধবার (৩০ জুন) মিরসরাইয়ে ১৬ জন ও সীতাকুণ্ডে ২৪ জন, বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) মিরসরাইয়ে ২১ জন ও সীতাকুণ্ডে ৩০ জন, শুক্রবার (২ জুলাই) মিরসরাইয়ে ৩০ জন ও সীতাকুণ্ডে ৩৬ জন এবং শনিবার (৩ জুলাই) মিরসরাইয়ে ১৮ জন এবং সীতাকুণ্ডে ১৩ জনের নমুনায় করোনা শনাক্তের খবর জানায় সিভিল সার্জন কার্যালয়।

সর্বশেষ রোববার (৪ জুলাই) আগের ২৪ ঘণ্টায় মিরসরাইয়ের ১৯ জন ও সীতাকুণ্ডের ৩৫ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সতর্ক ও সচেতন থাকার বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। পরতে হবে মাস্ক।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে সরকার।

জেডএইচ
1 মন্তব্য
  1. আইনুল আছিফ বলেছেন

    শনাক্তের এ হার শুধুমাত্র যারা পরীক্ষা করেছেন তার এটা আমরা জানি,তবে ভয়ংকর ব্যাপার হচ্চে কোন কোন পরিবারে ৮-১০জন আক্রান্ত কিন্তু পরীক্ষা দিয়েছেন ১জন যেহেতু ১জনের পজিটিভ রেজাল্ট বাকিরা পরীক্ষা না করিয়ে বাড়িতে নিজেদের মত করে চিকিৎসা নিচ্ছে,এতে আছে পজিটিভ আর নেগেটিভ সাইড,পজিটিভ হচ্ছে উপজেলার মানুষ শহরে চাপ সৃষ্টি করছেনা কারন আমাদের হাসপাতাল গুলোতে আছে যথেষ্ট সিমাবদ্ধতা তা আমরা ভালো করেই জানি,নেগেটিভ সাইড হচ্ছে অনেকে পজিটিভ গ্রামে গ্রাম্য ডাক্তারের পরামর্শ মত চিকিৎসা নিয়ে ভালো হচ্ছেন এটা ঠিক কিন্তু অনেক কে আক্রান্ত করে যাচ্ছেন,মানছেন না কোন স্বাস্থবিধী।
    এ চিত্র জোরাগঞ্জ,মিরশ্বরাইর।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm