নওফেল—টিনু গ্রুপের দ্বন্দ্বে রক্ত ঝরল চট্টগ্রাম কলেজে, হাসপাতালে ৮ ছাত্র

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল অনুসারীর সঙ্গে কাউন্সিলর টিনু গ্রুপের অনুসারীদের বিরোধ দীর্ঘদিনের। সেই বিরোধ এবার গড়াল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে ইতিহাস বিভাগের সামনে ফের মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ আহত হয়েছে অন্তত ৮ জন। আহত শিক্ষার্থীরা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

যদিও উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বিভিন্ন সময় দাবি করে আসছেন তাঁর কোনো গ্রুপ নেই। তবে চট্টগ্রাম শহরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নওফেল গ্রুপের অস্তিত্ব রয়েছে প্রকাশ্যে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম কলেজের ইতিহাস বিভাগের সামনেই ছাত্রলীগের দুপক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় ইতিহাস বিভাগ ভবনের বেশকিছু শ্রেণিকক্ষ ভাঙচুর করা হয়।

Yakub Group

এদিকে আহতদের মধ্যে রয়েছেন গণিত বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র সাফায়েত হোসেন রাজু ও অর্ণব দেব, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মোস্তফা আমান, ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের মেহেরাজ হোসেন পাভেল ও দ্বাদশ শ্রেণির রাফসান ও জিসান। তাঁরা সবাই কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদুল করিমের অনুসারী।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজের দাবি, জিয়া উদ্দীন আরমানসহ তাঁর চার কর্মী আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবরোধ উঠল আ জ ম নাছিরের আশ্বাসে, চলছে ক্লাস-পরীক্ষা

ঘটনার পর কলেজে অবস্থান নেয় চকবাজার থানা পুলিশ। এসময় উভয় গ্রুপের কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এবিষয়ে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুর কাদের মজুমদার আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, কর্মী সংগ্রহ করতে গিয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৪-৫ জন আহত হয়েছেন।

কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদুল করিম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে বের হয়ে আমার সঙ্গে কথা বলার জের ধরে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজসহ তাঁর গ্রুপের সদস্যরা ওই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এসময় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নুর মোস্তফা টিনু কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে কলেজ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে শাহনাজ সুলতানা নামে এক অভিভাবক বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজে আসে পড়ালেখা করতে। কিন্তু এখানে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে গিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে। এ ধরনের নোংরা রাজনীতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বারবার হামলার মুখে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কলেজ প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে এর একটা বিহিত করার প্রয়োজন। নয়ত স্বনামধন্য কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে এমন অপরাজনীতির কারণে পড়ালেখার বদলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেশি পরিচালিত হবে। এসব কলেজে সন্তানদের ভর্তির ব্যাপারে অনাগ্রহ সৃষ্টি হবে অভিবাবকদের।

আরএস/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm