চট্টগ্রামে ৫ নারী উদ্যোক্তার দেশি পণ্যের নতুন আয়োজন ‘বৈঠক’

নগরে প্রথমবারের মতো পাঁচ নারী উদ্যোক্তা দেশি পণ্য নিয়ে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন করেছে। ‘বৈঠক’ নামের এই ঈদ এক্সিবিশনের পর্দা নামে শনিবার (২ এপ্রিল) রাত ৮টায়।

নগরের দক্ষিণ খুলশীর শেখ রেসিডেন্স ভবনে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করা হয়। বৈঠক শিরোনামের এই এক্সিবিশনে অংশ নেন চট্টগ্রামের পাঁচ নারী উদ্যোক্তা। তাঁরা হলেন- নিলুফার জাহান, মেহের নিগার, তাজমিন ঝুমুর, হুমায়রা হালিম ও প্রনামী চৌধুরী রাত্রি।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, শুধু দেশি বাহারি পণ্যের সমাহার নিয়ে উদ্যোক্তাদের বাসায় দুদিনের এই ঈদ এক্সিবিশনের আয়োজন করা হয়।

এক্সিবিশনে উদ্যোক্তা নিলুফার জাহান ও মেহের নিগার ‘মৌরিতা’ নামে দেশীয় পোশাকের সম্ভার নিয়ে হাজির হন। ‘মাদুর’ নামে তাজমিন ঝুমুর অংশ নেন দেশীয় তৈরি গহনা নিয়ে।

‘বিচিত্রা‘ নামে নান্দনিক গিফট আইটেম ছিল প্রনামী চৌধুরী রাত্রির । দেশি বিভিন্ন খাবার নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেন নুরজাহান মুন্নার ‘তিতাস কন্যা’ ও হুমায়রা হালিমের ‘হুমাস’ কিচেন।

আরও পড়ুন: বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দিল বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা

রেস্টুরেন্ট কিংবা কনভেনশন হলে না করে ব্যতিক্রমী আয়োজনটি করা হয় উদ্যোক্তাদের নিজেদের বাসায়। এই পাঁচ উদ্যোক্তার বাসাও আবার একই ভবনে। তাই ক্রেতারা একই ছাদের নিচে এসে স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পছন্দের কেনাকাটা করেন।

উদ্যোক্তারা জানান, সবাই যেহেতু অনলাইনে কাজ করেন সেহেতু ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি কথা হওয়ার সুযোগ হয় না। ক্রেতাদের শুধু ছবি দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাই উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ক্রেতাদের সরাসরি সাক্ষাতের জন্য এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। আর এটি আমরা ঘরোয়া পরিবেশে করার চেষ্টা করেছি। কারণ এতে একটা আন্তরিকতা থাকবে, যেটি মেলাতে কিংবা অন্য কোথাও সম্ভব নয়।

উদ্যোক্তারা আরও জানান, শুধু দেশীয় পণ্য নিয়ে চট্টগ্রামে আগে কখনও এ ধরনের মেলা হয়নি। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের ফলে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির পাশাপাশি ক্রেতাদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি এবং দেশীয় পণ্যের প্রচার বাড়বে।

এ বিষয়ে নারী উদ্যোক্তা মেহের নিগার আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো আমরা পাঁচজন নারী উদ্যোক্তা দুদিনের দেশীয় পণ্যের ঈদ এক্সিবিশনের আয়োজন করেছি। এর আগে কখনো দেশীয় পণ্যের মেলা হয়নি। প্রথমবার হিসেবে ভালোই সাড়া পেয়েছি। আমাদের এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের পাশাপাশি আমাদের দেশীয় ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব হবে। আগামীতে আরো বড় পরিসরে আয়োজন করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

এদিকে ঈদ এক্সিবিশন মেলায় রং চা’র সঙ্গে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী গণি বেকারির বেলা বিস্কুট দিয়ে ক্রেতাদের আপ্যায়ন করা হয়।

এএইচ/আরবি

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm